ঢাকা: দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও নির্বাচন কমিশন (ইসি) সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে ২০০৮ সালের নির্বাচনেই আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার প্রার্থিতা বাতিল হতো বলে মন্তব্য করেছেন দুদক চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন। সে সময় শেখ হাসিনার হলফনামায় সম্পদের তথ্যে বিশাল গরমিল ছিল বলে জানান তিনি।
রোববার (১১ জানুয়ারি) দুদকের বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স অ্যাগেইনস্ট করাপশন (র্যাক)-এর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের উদাহরণ টেনে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্পদের যে হলফনামা দিয়েছিলেন, বাস্তবে তার সম্পদের সঙ্গে তার বিস্তর ব্যবধান ছিল। যদি দুদক এবং নির্বাচন কমিশন তখন সঠিকভাবে কাজ করতো, তবে তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেটি করা হয়নি।”
নির্বাচনের সময় অল্প সময়ের মধ্যে হলফনামা যাচাই করা কঠিন উল্লেখ করে ড. মোমেন বলেন, “অল্প সময়ের মধ্যে অত সূক্ষ্মভাবে কাজ করা আমাদের পক্ষে সবসময় সম্ভব হয় না। তাই কোনো প্রার্থীর সম্পদ নিয়ে আপনারা (সাংবাদিকরা) সন্দিহান হলে দ্রুত আমাদের তথ্য দিন। আপনারা নিজেরাও অনুসন্ধান করে আমাদের সহায়তা করতে পারেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “হলফনামায় সম্পদ গোপন করেছেন এমন কেউ আগামী দিনে শাসক হোক, তা আমরা চাই না।”
সুশাসন ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা রাষ্ট্রের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, “আমাদের প্রত্যাশা সবার জন্য সুশাসন ও ন্যায়বিচার। একটি ন্যায়নিষ্ঠ রাষ্ট্র গঠনের জন্য যা যা প্রয়োজন, এই বছর আমরা তা পাবো বলে আশা করি। দুর্নীতি আমাদের একটি বড় সংকট। এই সংকট নিরসনে আমাদের সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। যারা দেশের শাসক হবেন, তারা যেন সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ হন-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
র্যাকের সভাপতি শাফি উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দুদক কমিশনার মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবার আজিজী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহ্সান ফরিদ এবং সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম।
‘দুদক-ইসি ঠিকমত কাজ করলে ২০০৮ সালেই হাসিনার প্রার্থীতা বাতিল হতো’
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:০০ | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৪
১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:০০ | আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৪
সারাবাংলা/এনএল/এসআর