চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম নগরী ও জেলার হাটহাজারীতে আলাদা দুটি ছুরিকাঘাতের ঘটনায় দুই যুবক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে নগরীর বন্দর থানার পোর্ট কলোনি এলাকায় এবং জেলার হাটহাজারী উপজেলা বাসস্ট্যান্ডে এ দুটি ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে।
নগরীর বন্দর এলাকায় নিহত আজিয়ার রহমান (৩৫) বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার আলতি বুরুজবাড়িয়া এলাকার মৃত হাসেন আলীর ছেলে। পেশায় অ্যাপভিত্তিক রাইড শেয়ারিং প্রতিষ্ঠান ‘পাঠাও’র বাইক চালক আজিয়ার নগরীর বন্দরটিলা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
বন্দর থানার অফিসার ইনিচার্জ (ওসি) আবদুর রহিম সারাবাংলাকে বলেন, ‘আনুমানিক রাত দেড়টার দিকে পোর্ট কলোনি সংলগ্ন নিমতলা সড়কে রক্তাক্ত অবস্থায় আজিয়ার পড়ে ছিল। আমাদের টহল পুলিশের টিম তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’
প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওসি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে তার পাঠাও সার্ভিসের বাইক, মোবাইল ও মানিব্যাগ পাওয়া যায়। সেই সূত্রে আমরা তার পরিচয় নিশ্চিত করি প্রথমে। তবে ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সে আহত অবস্থায় বাইক চালিয়ে সেখানে আসে। সেখানে চলন্ত বাইক থেকে সে রাস্তায় ঢলে পড়ে। তার শরীরে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন আছে। সম্ভবত অন্য কোথাও ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পর বাইক চালিয়ে বাসায় যাবার পথে সে রাস্তায় পড়ে যায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।’
এ ঘটনায় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে বলে বন্দর থানার ওসি আবদুর রহিম জানিয়েছেন।
এদিকে শনিবার গভীর রাতে হাটহাজারী উপজেলার বাসস্ট্যান্ড কলাবাগান এলাকায় ছুরিকাঘাতে এক মাইক্রোবাস চালক নিহত হয়েছেন। মাহাবুবুল আলম (৩৫) নামে ওই যুবক হাটহাজারী পৌরসভার দেওয়াননগর এলাকার বাসিন্দা।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, অটোরিকশায় করে আসা তিনজন অজ্ঞাত দুর্বৃত্ত মাহবুবুল আলমকে ছুরিকাঘাত করে সেখানে ফেলে যায়। ভোর ৪টার দিকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মাহবুবুলের মৃত্যু হয়। কী কারণে, কারা তাকে হত্যা করেছে সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’