ঢাকা: রাজধানীর তেজতুরী বাজারে স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব রয়েছে। তবে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কি না- সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- জিন্নাত (২৪), মো. বিল্লাল, আব্দুল কাদির (২৮) ও মো. রিয়াজ (৩১)। গতকাল শনিবার রাজধানী ঢাকা, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
শফিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে দুইজন হলো আপন ভাই। ঢাকা, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোণা জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত দুই শ্যুটারের একজন জিন্নাত, মূল সমন্বয়কারী মো. বিল্লাল, ঘটনার পর আসামীদের আত্মগোপনে সহায়তাকারী আব্দুল কাদির ও ঘটনার আগেরদিন ঘটনাস্থল রেকিকারী মো. রিয়াজকে গ্রেফতার করে। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত নম্বর প্লেট বিহীন একটি মোটরসাইকেল ও নগদ ছয় হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা- জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই হত্যাকাণ্ডে ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব রয়েছে। এখনও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। আমরা তদন্ত করছি। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা প্রাথমিকভাবে হত্যাকান্ড ঘটানোর কথা স্বীকার করেছে। এর নেপথ্যে যদি কেউ থাকে তাদেরকে আমরা খুঁজে বের করবো।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর পশ্চিম তেজতুরী পাড়াস্থ হোটেল সুপার স্টারের পাশের গলিতে অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্তরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আজিজুর রহমান মুছাব্বির (৪৪)-কে হত্যার উদ্দেশে গুলি করে। এ ঘটনায় মুছাব্বিরসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনার পরপরই আহতদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে প্রেরণ করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মোসাব্বির-কে মৃত ঘোষণা করেন এবং সুফিয়ান বেপারী মাসুদকে (৪০) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে ৪ জন অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।