রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে ৪র্থ তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উদ্বোধন করা হয়েছে। ৪ দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ওজন ও ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করবে।
রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়ামে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের এমফিল সভাপতি মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন, শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোসা. রোকসানা বেগম, আন্তঃবিভাগ গেমস সাব-কমিটি ও কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্যে শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোসা. রোকসানা বেগম বলেন, ‘আমরা আমাদের তায়কোয়ানডো কিভাবে আরও ভালো করতে পারি সে বিষয়ে আমাদের আজকের প্রধান অতিথি আমাদের উপদেশ দিবে আশা করছি। তার মুল্যবান সময় দিয়ে আজকে এখানে উপস্থিত হওয়ায় আমরা আজকে ধন্য।’
এসময় রাবি কলা অনুষদের ডিন ও আন্তঃবিভাগ গেমস সাব-কমিটি ২০২৫-২৬ এর সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রাকারিকুলার ব্যবস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি। শিক্ষার্থীদের মনন বিকাশে এই খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। তারই ধারাবাহিকতায় আজকের এই তাইকোয়ানডো প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে।’
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের এমফিল সভাপতি মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ বলেন, ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে আমি আনন্দিত। শুরুতে প্রদর্শিত ডেমোনস্ট্রেশন আমার কাছে অত্যন্ত ভালো লেগেছে। তিনি জানান, সম্প্রতি চীনে একটি আন্তর্জাতিক তায়কোয়ানডো অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার সুযোগ হলেও সেখানে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় তিনি হতাশ হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ব তায়কোয়ানডো র্যাংকিংয়ে বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান-১৪৭। যেখানে মিয়ানমার ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের মতো দেশও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তায়কোয়ানডোর সঙ্গে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।’
জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ আরও বলেন, ‘তায়কোন্দোতে মেধার সংযোগ ঘটাতে হবে। চীনে খেলায় এআই যুক্ত করে উন্নতির চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তরুণ শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে তায়কোন্দোতে দেশ বড় শক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।’
উল্লেখ্য, এবারের তাইকোয়ানডো প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬টি বিভাগ থেকে ১০৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছেন।