ঢাকা: কখনো চাকরি দেওয়ার নামে আবার কখনো ভালো মুনাফায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে টেলিগ্রাম অ্যাপের মাধ্যমে অর্ধলাখের বেশি সিম ও ভিওআইপি গেটওয়ে ব্যবহার করে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিত প্রতারকরা। আর এই অপরাধের অভিযোগে পাঁচ চীনা নাগরিকসহ আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে ডিএমপি (ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিসি (সাইবার উত্তর) হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার এসব তথ্য জানান।
গ্রেফতাররা হলেন- চেন লিং ফেং, জেং কং, জেং চাংকিয়াং, ওয়েন জিয়ান কিউ, হুয়াং ঝেং জিয়াং, মো. জাকারিয়া, নিয়াজ মাসুম (২০), কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয় (৩৮)। রাজধানীর বসুন্ধরা ও উত্তরা পশ্চিম থানাধীন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অপারেটরের ৫১ হাজার ২৫১টি সিম, ৫১টি মোবাইল ফোন, ২১টি ভিওআইপি গেটওয়ে সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারদের থেকে উদ্ধার করা জিনিসপত্র।
ডিসি বলেন, ডিবি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম অনলাইনে জব সংক্রান্ত প্রতারণা, টেলিগ্রাম গ্রুপের প্রতারণাসহ বিভিন্ন প্রতারণা সংক্রান্তে ডিএমপি, ডিবি সাইবার সাপোর্ট সেন্টার ও ডিবি-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে রাজধানীতে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতারক চক্রের সন্ধান পায়। প্রতারক চক্রের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রতারণায় জড়িত মো. নিয়াজ মাসুম ও কামরুল হাসান ওরফে হাসান জয়কে গ্রেফতার করে ডিবি।
এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অনলাইনে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১৪টি ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন অপারেটরের সর্বমোট ৫১ হাজার ৬৭টি সিম, চারটি মোবাইল ফোন, দুইটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়েছে বলে ডিসি জানান।
তিনি বলেন, তদন্তে জানা যায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই ধরনের আরও অনলাইন প্রতারক চক্র রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ৯ নম্বর সেক্টর থেকে পাঁচ জন বিদেশি নাগরিকসহ ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে অনলাইন প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত সাতটি অবৈধ ভিওআইপি গেটওয়ে ডিভাইস, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪৭টি মোবাইল, বিভিন্ন অপারেটরের ১৮৪টি সিম, পাঁচটি ল্যাপটপ উদ্ধার করা হয়।
হাসান মোহাম্মদ নাসের রিকাবদার বলেন, গ্রেফতার প্রতারকরা কখনো চাকরি দেওয়ার নামে, কখনো ভালো মুনাফায় বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে বা কখনো নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সস্তায় সরবরাহের চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষের নিকট থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতো।
গ্রেফতার নিয়াজ ও হাসান জয়কে আদালতে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন।