ঢাকা: সমাপ্ত ২০২৫ সালের পঞ্জিকা বছরে ৮ হাজার ১৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা পরিচালন মুনাফা অর্জন করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংক। এটি এর আগের পঞ্জিকা বছরের (২০২৪ সাল) তুলনায় ২ হাজার ৩২২ কোটি ৮০ লাখ টাকা বেশি।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিলে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শওকত আলী খান এ তথ্য জানান।
এমডি জানান, ২০২৪ সালে সোনালী ব্যাংকের পরিচালন মুনাফা ছিল ৫ হাজার ৬৯৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে এ প্রবৃদ্ধি ব্যাংকের জন্য বড় অর্জন। প্রভিশন সংরক্ষণের পরও ২০২৫ সালে ব্যাংকের নেট মুনাফা প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা বা তার বেশি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শওকত আলী খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর অন্যতম সমস্যা ছিল মূলধন ঘাটতি। তবে চলতি বছর থেকে সোনালী ব্যাংকের আর কোনো মূলধন ঘাটতি নেই। এটি ব্যাংকের জন্য একটি বড় সাফল্য।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ব্যাংকের ক্যাপিটাল রিস্ক ওয়েটেড রেশিও ন্যূনতম প্রয়োজনীয় ১০ শতাংশের চেয়েও বেশি রয়েছে, ফলে ভবিষ্যতে ব্যবসা সম্প্রসারণের যথেষ্ট সুযোগ আছে।
খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে এমডি বলেন, ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার কমে ১৫ দশমিক ৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। চলতি২০২৬ সালে এটি ১১–১২ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ ও ২০২৭ সালের মধ্যে খেলাপি ঋণ সিঙ্গেল ডিজিটে নামিয়ে আনার তিন বছরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, শীর্ষ ২০ খেলাপির কাছ থেকে ইতোমধ্যে ৭৪৫ কোটি টাকা আদায় হয়েছে এবং বাকি অর্থ আদায়ের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সরকারি খাতের পাওনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে এককভাবে এলসি কার্যক্রম পরিচালনার বিপরীতে সোনালী ব্যাংকের প্রায় ৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকার এলসি কমিশন এখনো পাওয়া যায়নি। এই অর্থ আদায় হলে ব্যাংকের মূলধন আরও শক্তিশালী হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু নির্দিষ্ট শাখায় অতিরিক্ত ঋণ বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান এমডি। বর্তমানে পাঁচটি শাখায় ঋণের কনসেন্ট্রেশন ৩৭ শতাংশ, যা ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হচ্ছে। বড় ঋণ অন্য শাখায় স্থানান্তরের মাধ্যমে ঝুঁকি কমানো হচ্ছে।
এমডি বলেন, সোনালী ব্যাংকের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা এখনও দৃঢ় থাকায় আমানতের প্রবাহ বাড়ছে। তবে কঠোর যাচাই-বাছাইয়ের কারণে আমানত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ঋণ বিতরণ সব সময় সম্ভব হচ্ছে না।
হলমার্ক কেলেঙ্কারির পর ব্যাংকে বড় কোনো অনিয়ম হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুশাসন ও কঠোর ঋণ ব্যবস্থাপনার ফলে খেলাপি ঋণ ধারাবাহিকভাবে কমছে।
আগামী ২০২৬ সালের নতুন ব্যবসায়িক লক্ষ্যমাত্রা শিগগির ঘোষণা করা হবে জানিয়ে শওকত আলী খান বলেন, নতুন বছরে ব্যাংকের আয় ২০২৫ সালের তুলনায় আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।