ঢাকা: বাংলাদেশে দ্রুত বর্ধনশীল ফ্রিল্যান্সিং খাতকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার লক্ষ্যে আইসিটি বিভাগ ও আইসিটি অধিদফতর নির্মিত বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সার নিবন্ধন ও আইডি কার্ড ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম freelancers.gov.bd উন্মোচন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ফ্রিল্যান্সার আইডি উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। এ সময় উপস্থিত ছিলেন আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, আইসিটি অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবু সাঈদ এবং বাক্কো সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের ফ্রিল্যান্সাররা সরকারি স্বীকৃত ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ড পাবে- যা ব্যাংকিং সেবা, ঋণ ও ক্রেডিট সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা এবং সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করবে এবং পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি করবে। এই উদ্যোগ ফ্রিল্যান্সিং খাতকে একটি নিরাপদ ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় নিয়ে যাবে এবং ডিজিটাল অর্থনীতি ও বৈদেশিক আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো) দীর্ঘদিন ধরে ফ্রিল্যান্সারদের দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে। জাতীয় এই প্ল্যাটফর্ম চালুর মাধ্যমে সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে বাক্কোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার একটি শক্ত সমন্বয় প্রতিফলিত হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে বাক্কো সভাপতি তানভীর ইব্রাহিম বলেন, ‘ফ্রিল্যান্সার আইডি দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাতকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেবে এবং হাজার হাজার তরুণকে বৈদেশিক আয়, প্রযুক্তিভিত্তিক কর্মসংস্থান ও পেশাগত স্বীকৃতিতে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ প্রদান করবে।’
সভাপতির বক্তব্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা, বিশেষ করে হয়রানি ও আর্থিক জালিয়াতির অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ ফ্রি রাখা হয়েছে।’
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে—আবেদন ফি, নবায়ন ফি ও প্রসেসিং ফিসহ সব ধরনের আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট হয়রানি সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে। ডিওআইসিটি’র ২৯ জন প্রকৌশলী আইডি ভেরিফিকেশনে একটি রিসোর্স পুল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। কারিগরি সহায়তার জন্য ৪ জন সাপোর্ট এক্সপার্ট, শেয়ারড রিসোর্স পুল হিসেবে ফ্রিল্যান্সারদের পাশে থাকবেন। খুব শিগগিরই এপিআইভিত্তিক ভেরিফিকেশন ব্যবস্থা চালু হবে। এপিআই ভেরিফিকেশনের দুই স্তর নিয়ে কমিউনিটির সঙ্গে সমঝোতা হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব আরও বলেন, এরই মধ্যে সাইটের ভিএপিটি সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ থেকেই সাইন আপ এবং ফ্রিল্যান্সার আইডির জন্য আবেদন করা যাবে। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ফ্রিল্যান্সারের ইউজার এক্সপেরিয়েন্স উন্নয়নে ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটি লিডার ও বাংলাদেশ কল সেন্টার অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে কাজ করবেন।
আইসিটি বিভাগ থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকে একটি ফরমাল চিঠি পাঠানো হবে, যাতে ভবিষ্যতে ম্যানুয়াল আইডির পরিবর্তে এই ডিজিটাল ফ্রিল্যান্সার আইডি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রহণ করে।
এরই মধ্যে জালিয়াতি ও হয়রানির অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগের চুক্তি বাতিল করা হয়েছে এবং ফ্রিল্যান্সার কমিউনিটি লিডাররা স্বীকৃত পেমেন্ট মেথডে বার্ষিক ৫০ ডলারের মার্জিনকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। আইসিটি বিভাগের প্রকৌশলীরা এই সফটওয়্যারটি তৈরি করেছেন তারাই এর রক্ষণাবেক্ষণ করবেন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
নতুন এই ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের মাধ্যমে নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সাররা ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা এবং সরকারি ও বেসরকারি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে এই প্ল্যাটফর্মটি একটি জাতীয় ফ্রিল্যান্সার ডেটাবেজ হিসেবে কাজ করবে, যেখানে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা, দক্ষতা ও কাজের ধরন সংরক্ষিত থাকবে, যা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, এই উদ্যোগের ফলে ফ্রিল্যান্সারদের পরিচয় যাচাই সহজ হবে, ব্যাংকিং ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা কমবে এবং দেশের ফ্রিল্যান্সিং খাত আরও স্বচ্ছ ও গতিশীল হবে।
আগে যে সকল ফ্রিল্যান্সাররা টাকা পয়সা দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন তাদের বিষয়ে আইসিটি বিভাগের পদক্ষেপ বিষয়ে জানতে চাইলে তথ্যপ্রযুক্তি অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবু সাঈদ বলেন, যদি কেউ অভিযোগ করে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধনের পর উপস্থিত একজন ফ্রিল্যান্সারের আইডি কার্ড এর আবেদন অনুমোদন করা হয়।
অংশীজন সভায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. আবু সাঈদ, বাক্য এর সভাপতি, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এর প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিনিধি, আপওয়ার্ক বাংলাদেশ গ্রুপের প্রতিনিধি, বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সার এবং বিভাগের কর্মকর্তার উপস্থিত ছিলেন।