ঢাকা: নির্বাচনকে সামনে রেখে সাবেক ক্ষমতাসীন দলের পলাতকদের বিদেশে বসে বিভিন্ন বক্তব্যের মাধ্যমে হুমকি দেওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.) বলেছেন, যারা বিদেশে পালিয়ে আছে, তারা সাহস থাকলে দেশে আসুক। দেশে এসে আইনের আশ্রয় নিয়ে কথা বলুক। পালিয়ে দূরে বসে হুমকি ধামকি দিয়ে কথা বললে সেটার ভ্যালু নাই।
বুধবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিএন্ডসি) ঐতিহ্যবাহী ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে বিজিবির ১০৪ তম রিক্রুটিং প্যারেড সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে এক ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্রে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও তার পুত্র জয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছে- এ বিষয়ে ভোটারদের কীভাবে আশ্বস্ত করবেন- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, যারা পালিয়ে আছে তারা অনেক কিছুই বলতে পারে। যদি সাহস থাকে দেশে এসে কথা বলুক। আইনের আওতায় এসে বললে সেটার অর্থ থাকবে।
নির্বাচনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচনে কেউ যেন বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য ফোর্সের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। কেউ বিশৃঙ্খলা করতে পারবে না। সবাই সহযোগিতা করলে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবেই হবে।
আরাকান আর্মির সীমান্ত আইন লঙ্ঘন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, মিয়ানমার একটি বৈধ রাষ্ট্র। কিন্তু বর্তমানে রাখাইন সীমান্ত এলাকায় আরাকান আর্মির দখল রয়েছে। মিয়ানমার সেনাবাহিনী সেখানে নেই, এ কারণেই আমাদের সমস্যা হচ্ছে। বাংলাদেশের যোগাযোগ মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে রয়েছে এবং সীমান্তে কোনো ঘটনা ঘটলে মিয়ানমার সরকারকে প্রতিবাদ জানানো হয়। তবে আরাকান আর্মিকে এখনো বৈধতা দেওয়া হয়নি। তারা বিভিন্নভাবে সীমান্তে সমস্যা সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি একটি শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, মাঝে মাঝে মিয়ানমার সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘর্ষ হলে সেখান থেকে গোলা এসে বাংলাদেশের ভেতরে পড়ে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে সে জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সীমান্ত সিল করার কোনো পরিকল্পনা আছে কি না- প্রশ্নে তিনি বলেন, সীমান্তে সবসময়ই বাহিনী মোতায়েন রয়েছে। সীমান্ত দিয়ে কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চাইলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
পালিয়ে থাকা সাবেক সরকারের অনুসারীরা বাহিনীর ভেতরে আছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, পালিয়ে থাকাদের কোনো অনুসারী আমাদের বাহিনীর মধ্যে নেই।