Wednesday 14 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে প্রচারণা শুরু ব্যাংকগুলোর

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:০০

-ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ উল্লিখিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোটকে সামনে রেখে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশজুড়ে প্রচারণা শুরু করেছে দেশের সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকগুলো।

সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার আলোকে ব্যাংকগুলোর শাখার সামনে সংস্কারের পক্ষে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্রচারপত্র টাঙানো হয়েছে।

বুধবার(১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা,মা‌নিকনগর,রমনা, পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ ব্যাংক শাখার প্রবেশপথে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের আহ্বান সংবলিত ব্যানার প্রদর্শিত হয়ে‌ছে।

কিছু ব্যানারে সরাসরি ‘গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিন’ লেখা থাকলেও, কোথাও আবার ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’—এমন স্লোগানের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারের সিদ্ধান্তের আলোকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে মৌখিকভাবে এই প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই নির্দেশনার ভিত্তিতেই ব্যাংক শাখাগুলোর সামনে ব্যানার স্থাপন করা হয়ে‌ছে। তাঁদের মতে, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় নতুন সরকারের সংস্কার উদ্যোগ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ গড়তে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেওয়া জরুরি।

এর আগে গত রোববার -এর গভর্নর -এর সঙ্গে দেশের ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের (এমডি) এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ওই সভাতেই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেন গভর্নর। একই সঙ্গে প্রতিটি ব্যাংক শাখায় অন্তত দুটি করে ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এছাড়া, গত ৫ জানুয়ারি গণভোটের পক্ষে প্রচারণার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব এবং (বিএবি)-কে চিঠি দেওয়া হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকারি ও বেসরকারি সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সম্মুখভাগে দুটি করে ‘খাড়া ব্যানার’ প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অনুরোধ জানানো হয়।

জানা গেছে, এ বিষয়ে গত ৪ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তাঁর বিশেষ সহকারী ও প্রচার কার্যক্রমের মুখ্য সমন্বয়কের এক বৈঠকে সম্মতি প্রদান করা হয়।

সংবিধান সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে গণভোট নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। তবে সেই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয় ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা কতটা নিরপেক্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমার মধ্যে থাকা উচিত—এই প্রশ্নের স্পষ্ট নীতিগত ব্যাখ্যা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর