Wednesday 14 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

৫ মাসে বাণিজ্য ঘাটতি ৯৪০ কোটি ডলার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪১ | আপডেট: ১৪ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:১৮

-ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: রফতানি আয়ের গতি কমায় চলতি অর্থবছরের শুরুতেই পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে যাচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) দেশের পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৯৪০ কোটি ৭০ লাখ (৯ দশমিক ৪১ বিলিয়ন) ডলারে। যদিও ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্য (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট—বিওপি) সংক্রান্ত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি করেছেন ২ হাজার ৭৫৯ কোটি ৪০ লাখ (২৭.৫৯ বিলিয়ন) ডলারের, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের এই পাঁচ মাসে আমদানি হয়েছিল ২৬ দশমিক শূন্য এক বিলিয়ন ডলারের পণ্য। আর এ সময় সময়ে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ১৮ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় মাত্র দশমিক ৬ শতাংশ বেশি।

বিজ্ঞাপন

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে রফতানি আয় ছিল ১৮ দশমিক শূন্য সাত বিলিয়ন ডলার। আমদানি ও রফতানির এই ব্যবধানের কারণেই চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি বেড়ে ৯ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে পণ্য বাণিজ্যে ঘাটতি ৯ শতাংশ কমে ২ হাজার ৪৫ কোটি (২০.৪৫ বিলিয়ন) ডলারে নেমেছিল। তার আগের অর্থবছর ২০২৩-২৪ সালে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৪৩ কোটি (২২.৪৩ বিলিয়ন) ডলার এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে ছিল ২ হাজার ৭৩৮ কোটি (২৭.৩৮ বিলিয়ন) ডলার। তবে চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক হিসাবেও ঘাটতির প্রবণতা স্পষ্ট। জুলাই-আগস্ট দুই মাসে পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ২৯৫ কোটি ৮০ লাখ (২.৯৬ বিলিয়ন) ডলার। তিন মাস শেষে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫৭১ কোটি ২০ লাখ (৫.৭১ বিলিয়ন) ডলারে। চার মাস শেষে (জুলাই-অক্টোবর) ঘাটতি ছিল ৭৫৭ কোটি (৭.৫৭ বিলিয়ন) ডলার।

এদিকে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয়ের প্রধান উৎস রফতানি আয়ও টানা কমছে। আগস্ট থেকে ডিসেম্বর—পাঁচ মাস ধরেই রফতানি আয় হ্রাস পাচ্ছে। রপ্তানিকারকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্কনীতি ঘিরে বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবেই রপ্তানি বাণিজ্যে এই নেতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে। তারা আশঙ্কা করছেন, আগামী মাসগুলোতেও এই সংকট অব্যাহত থাকতে পারে, যা সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াবে।

রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ষষ্ঠ মাস ও গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩৯৬ কোটি ৮৩ লাখ (৩.৯৭ বিলিয়ন) ডলার। যা আগের অর্থবছরের একই মাস ডিসেম্বরের তুলনায় ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ কম। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ডিসেম্বরে রপ্তানি আয় ছিল ৪৬২ কোটি ৭৫ লাখ (৪.৬৩ বিলিয়ন) ডলার।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রফতানি আয়ে বড় উল্লম্ফন দেখা গেলেও পরের মাসগুলোতে ধারাবাহিক পতন শুরু হয়। জুলাইয়ে রফতানি আয় ছিল ৪৭৭ কোটি (৪.৭৭ বিলিয়ন) ডলার, যা আগের অর্থবছরের জুলাইয়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি। তবে আগস্টে আয় নেমে আসে ৩৯১ কোটি ৫০ লাখ (৩.৯১ বিলিয়ন) ডলারে, যা আগের বছরের আগস্টের তুলনায় ২ দশমিক ৯৩ শতাংশ কম। সেপ্টেম্বরে আয় হয় ৩৬২ কোটি ৭৫ লাখ (৩.৬২ বিলিয়ন) ডলার, কমে ৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অক্টোবরে আয় দাঁড়ায় ৩৮২ কোটি ৩৮ লাখ (৩.৮২ বিলিয়ন) ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ কম। নভেম্বরে আয় হয় ৩৮৯ কোটি ১৫ লাখ (৩.৮৯ বিলিয়ন) ডলার, কমে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

সব মিলিয়ে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (জুলাই-ডিসেম্বর) পণ্য রফতানি থেকে আয় গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২ দশমিক ১৯ শতাংশ কমেছে। এই সময়ে বাংলাদেশ রফতানি করেছে ২ হাজার ৩৯৯ কোটি ৬৯ লাখ (২৩.৯৯ বিলিয়ন) ডলারের পণ্য। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি আয় ছিল ২ হাজার ৪৫৩ কোটি ৩৫ লাখ (২৪.৫৩ বিলিয়ন) ডলার।

সারাব‌াংলা/এসএ/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর