ঢাকা: দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) থেকে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলসহ কয়েকটি এলাকায় মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যা আগামী দুই থেকে তিন-দিন স্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর প্রভাবে সারাদেশেই শীতের অনুভূতি আরও তীব্র হবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের ওপর অবস্থান করছে। একইসঙ্গে মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করায় দেশের ওপর দিয়ে শীতল ও শুষ্ক বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে রাত ও ভোরের দিকে কুয়াশার ঘনত্ব বাড়ছে এবং তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাচ্ছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে। দিনের তাপমাত্রাও সামান্য হ্রাস পেতে পারে। বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে শীতের প্রকোপ বেশি অনুভূত হচ্ছে। আজ সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, যেখানে পারদ নেমেছে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে।
বিভিন্ন বিভাগীয় শহরেও তাপমাত্রা কমেছে। রাজশাহীতে সকালের তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, রংপুরে ১২ দশমিক ৬, ময়মনসিংহে ১৪ দশমিক ২ এবং সিলেটে ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনায় তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক ৫ এবং বরিশালে ১২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তুলনামূলকভাবে চট্টগ্রামে তাপমাত্রা কিছুটা বেশি থাকলেও সেখানেও শীতের অনুভূতি স্পষ্ট, যেখানে তাপমাত্রা ছিল ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
রাজধানী ঢাকায় আজ সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যমতে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় আকাশ অস্থায়ীভাবে মেঘলা থাকতে পারে। তবে আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকবে। বাতাস উত্তর অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় পাঁচ থেকে দশ কিলোমিটার বেগে প্রবাহিত হতে পারে, যা শীতের অনুভূতি আরও বাড়িয়ে তুলছে।
শৈত্যপ্রবাহের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ, শিশু ও বয়স্করা। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। ভোর ও গভীর রাতে কুয়াশার কারণে সড়ক ও নৌপথে যান চলাচলেও কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, আগামী ১৬ জানুয়ারি পর্যন্ত তাপমাত্রা কমার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের দিকে ফিরতে পারে। এ অবস্থায় শীত মোকাবিলায় সবাইকে গরম পোশাক ব্যবহার, ভোর ও রাতে অপ্রয়োজনে বাইরে বের না হওয়া এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।