ঢাকা: এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) জালিয়াতি ও তথ্য বিক্রি করে মাসে কোটি টাকার বেশি আয় করত নির্বাচন কমিশনের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর কাম অফিস হাবীবুল্লাহ (৪১)। আর এভাবে ১১ কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তিনি। নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এনআইডির মূল সার্ভারে প্রবেশ করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে তা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
এদিকে, এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. হাবীবুল্লাহ ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) হিসেবে কর্মরত আলামিনকে (৩৯) বুধবার (১৪ জানুয়ারি) গ্রেফতার করেছে সিআইডি। আর এই ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে তারা। তাদের গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, গ্রেফতারদ্বয়ের মধ্যে মো. হাবীবুল্লাহ গজারিয়া উপজেলা নিবার্চন অফিস, মুন্সিগঞ্জ অফিসে সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে এবং মো. আলামিন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) হিসেবে কর্মরত ছিল। হাবীবুল্লাহ ২০০৮ সালে অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগদান করেন। ২০১৩ সাল থেকে নির্বাচন কমিশন অফিস, ঢাকাতে কর্মরত ছিলেন। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে উপজেলা নির্বাচন অফিস গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ এ বদলী হন। আর মো. আলামিন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর (আউটসোর্সিং) হিসেবে মো. হাবীবুল্লাহর সাথে নির্বাচন কমিশন অফিস, ঢাকাতে কাজ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, মো. আলামিন ২০১৬ সাল থেকে ঢাকা অফিসে ডাটা এন্ট্রি ও এতদ সম্বন্ধীয় কার্যাবলী সম্পাদন করতেন এবং তার কাছে যে গোপনীয় আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল সেটি ছিল সারা বাংলাদেশের অ্যাক্সেস সম্বলিত। এই আইডি দিয়ে সহজেই বাংলাদেশের সমস্ত জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করা হতো। হাবীবুল্লাহর কাছে যে আইডি ও পাসওয়ার্ড ছিল তা দিয়ে কেবল মাত্র উপজেলা নির্বাচন অফিস গজারিয়ার অন্তর্ভুক্ত নাগরিকদের তথ্য যাচাই সম্ভব ছিল।
তিনি বলেন, আলামিন পূর্ব পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্রে হাবীবুল্লাহকে ওই গোপনীয় আইডি ও পাসওয়ার্ড দেয়। এজন্য হাবীবুল্লাহ প্রতি সপ্তাহে আলামিনকে ৪ থেকে ৫ হাজার করে টাকা দিত। হাবীবুল্লাহ ওই গোপনীয় আইডি ও পাসওয়ার্ড পেয়ে অর্থের বিনিময়ে দেশের নাগরিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের সংবেদনশীল তথ্যসমূহ ২০০ থেকে ৩০০ টাকার বিনিময়ে বিক্রি করতো। জাতীয় নির্বাচন কমিশনের একটি অনুসন্ধানে দেখা গেছে মাত্র ১ সপ্তাহে ১ লাখ ১২ হাজার ১৫০টি এবং ৩০ দিনে ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৬০৮টি জাতীয় পরিচয় পত্রের তথ্য দেখা হয়েছে (এনআইডি ডাটা ভিউ)। প্রতিটি জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য প্রদানের বিপরীতে ৩০০ টাকা বিনিময় মূল্য হিসাব করলে অবৈধভাবে প্রায় ১১ কোটি হাতিয়ে নিয়েছে হাবীবুল্লাহ। এই টাকা দিয়ে ঢাকায় নিজস্ব ফ্ল্যাট, স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তিসহ বিলাসবহুলভাবে জীবন যাপনে অভ্যস্ত, যা তদন্তে পাওয়া যায়।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই প্রতারক চক্র অর্থের বিনিময়ে ও যোগসাজসে ওটিপি ট্রান্সফারের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এনআইডির মূল সার্ভারে প্রবেশ করে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করে ও তা বিভিন্ন সোস্যাল মিডিয়াকে প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার বিষয়টি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে গ্রেফতাররা। তাদের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় মামলা করা হয়েছে। তদন্তের জন্য তাদের রিমান্ডের আবেদনসহ পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।