ঢাকা: নির্বাচনি জরিপে ইসলামী আন্দোলনের ভোটের শতকরা হার নিয়ে জামায়াত আমিরের অপমানজনক বক্তব্য, জামায়াত শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবে না বলে আমিরের ঘোষণা, বিএনপির সঙ্গে জাতীয় সরকার করার ঘোষণাসহ কয়েকটি কারণে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনি জোট করতে পারছে না বলে জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মুখপাত্র ও দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। এ সময় তিনি বলেন, কারও অনুগ্রহে ইসলামী আন্দোলন রাজনীতি করে না।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে পুরানা পল্টনে দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
গাজী আতাউর বলেন, বিএনপি অথবা জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট করার কোনো সম্ভাবনা নেই। তারা নিজেরা ৩০০ আসনে নির্বাচন করবেন। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের নায়েবে আমিরকে ফোন করেছে এমন একটা গুজব ফেসবুকে ছড়িয়েছে এটার কোনো ভিত্তি নেই। জাতীয় পার্টি ও বিএনপির সঙ্গে জোট হওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে গাজী আতাউর বলেন, এটার কোনো সম্ভাবনা নেই।
তিনি আরও বলেন, আমরা ইসলামের পক্ষে আছি। আমাদের ওয়ানবক্স পলিসি ঠিক থাকবে। ৩০০ আসনেই আমাদের প্রার্থী থাকবে। ২৬৮ আসনে আমাদের প্রার্থী আছে। ৩২টি আসনে আমরা আমাদের আদর্শের সাথে যাদের সংহতি থাকবে এবং ওয়ানবক্স পলিসির পক্ষে যারা থাকবে তাদেরকে সমর্থন দেব।
জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান গুলশানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বলেছেন, তারা বিএনপির সঙ্গে জাতীয় সরকার করবেন। সে কারণে আমরা মনে করি একটা পাতানো নির্বাচন হতে পারে। এই শঙ্কাটা আমাদের আছে। সেই পথে হয়তো কেউ হাটবেন না আমরা শতর্ক করব। এজন্য ৩০০ আসনেই আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বি থাকবে। যাতে নির্বাচনটা পাতানো না হতে পারে।
জামায়াত শরিয়াহ আইন চালু করবে না এরকম কারণ দেখিয়ে জোট ছাড়লেন, তাহলে আপনারা ক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন করবেন কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করব। আমরাতো আন্দোলন করছি ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য। এখন যদি আমাদের কাছেই মনে হয় এটা অচল তাহলে কেমনে আগাবো। তাহলেতো সেক্যুলার রাজনীতি করাই ভালো।
শরিয়াহ আইন বাস্তবায়ন নিয়ে জামায়াতের আমির যে বক্তব্য দিয়েছেন সে বিষয়ে তারা ক্লারিফাই করেছে- এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে গাজী আতাউর বলেন, জামায়াতের আমিরের বক্তব্যের বিষয়ে তাদের স্পোকসম্যান জুবায়ের সাহেব যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন সেটা আমরা শুনেছি, তিনি স্পষ্ট বলেছেন আমরা প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করবো। আমরা সবাই এই ব্যাখ্যা বুঝি।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আসন কমবেশি হতেই পারে। তবে আমাদের আত্মসম্মানবোধে লেগেছে। আসন সমঝোতায় প্রথম আলোচনা শুরু হয়েছে আমাদের আমির ও জামায়াতের আমিরের মধ্যে ডিসেম্বরের ৯ তারিখ। দুজন একান্তে বসেছিলেন, তখন জামায়াত আমির ইনসাল্ট করেছেন। প্রথম আলোর জরিপে বিএনপিকে চায় ৬৫ ভাগ মানুষ, জামায়াতকে চায় ২৫ ভাগ মানুষ। সেখানে ইসলামী আন্দোলনকে চায় ০.০১ ভাগ মানুষ। সেদিন বসেই জামায়াত আমির আমাদের আমিরকে প্রথম আলোর জরিপ দেখিয়েছেন। উনি ইনসাল্ট করে যাত্রা শুরু করেছেন। সেদিনই আমাদের আমির আমাদেরকে বলেছেন, তারা হয়তো আমাদের বেইনসাফি করবে।
গাজী আতাউর আরও বলেন, সবশেষ মিটিং আমার সঙ্গে ডা. তাহের সাহেবের হয়। তখন তিনি আমার দেশের একটা জরিপের বিষয়টা সামনে আনেন। জরিপ কারা করে আপনারাও জানেন। এগুলো পেইড এজেন্সি থাকে, টাকা দিয়ে করা হয়। আমার দেশের ওই জরিপের ফলাফল ছিল বিএনপিকে চায় ৩৪ ভাগ, জামায়াতকে চায় ৩৩ ভাগ মানুষ। এনসিপিকে চায় ৭ ভাগ মানুষ। আমাদের চায় ৩ ভাগ মানুষ। তাহলে বোঝা গেলো জরিপ অনুযায়ী আমাদের কোনো অবস্থান নেই। আমাদেরকে যা দিয়েছে (আসন) এটা অনুগ্রহ করে দিয়েছে। আমরা কারও অনুগ্রহের পাত্র হয়ে রাজনীতি করতে চাই না।
তিনি বলেন, যেহেতু আমরা ৩০০ আসনে নির্বাচন করব। বাংলাদেশের মানুষ যেহেতু নতুন বন্দোবস্ত চায়, ইসলামে মানুষ আগ্রহী আছে। আশা করি আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।