Saturday 17 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

যারা গণতন্ত্রের পথকে ব্যাহত করতে চায় তারা যেন সফল না হয়: তারেক রহমান

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৩৩ | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৬

বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান – ছবি : সারাবাংলা

ঢাকা: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গণতন্ত্র প্রিয় প্রতিটি মানুষের সামনে জনগণের প্রতি দায়িত্বশীল একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ আমাদের সামনে এসেছে। কেউ কেউ বিভিন্ন রকম কথা বলে একটি অবস্থা তৈরি করার চেষ্টা করছে যেখানে এই গণতন্ত্রের পথ যেটি তৈরি হয়েছে সেটি যাতে বাধাগ্রস্ত হয়। আমি অনুরোধ করব, বাংলাদেশের দল মত নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষ যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, সেই প্রতিটি মানুষকে আজ সজাগ থাকার জন্য যারা বিভিন্ন উসিলা দিয়ে বিতর্ক তৈরি করে গণতন্ত্রের পথকে আবার নষ্ট করার বা ব্যাহত করার চেষ্টা করছেন- তারা যাতে সফল না হয়।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে আমরা ‘বিএনপি পরিবার ও মায়ের ডাক’-এর যৌথ উদ্যোগে আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সাথে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

বিজ্ঞাপন

অতীতের সকল অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করতে আগামীতে গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতিষ্ঠা জরুরী উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এবার যদি আমরা একটি দায়িত্বশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকার গঠনের সুযোগ হাতছাড়া করি তাহলে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আমাদের যে শহীদ, সেই শহীদদের প্রতি জুলুম করা হবে, তাদের আত্মত্যাগের প্রতি অমর্যাদা করা হবে, ৭১ সালের যারা শহীদ হয়েছেন এ দেশকে স্বাধীন করার জন্য, ৯০ এর স্বৈরাচারের বিরোধিতে আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, বিগত ১৬ বছরে যারা গুম-শহীদ হয়েছেন, বিভিন্ন ভাবে নির্যাতিত পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, ২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন যে হাজারো মানুষ যারা বিভিন্নভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন…. প্রত্যেকটি অন্যায়ের বিচারকে যদি প্রতিষ্ঠিত করতে হয় তাহলে আগামী দিনে অবশ্যই বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দরকার।

তিনি আরও বলেন, আপনারা যারা আজকে সামনে বসে আছেন, এখানে উপস্থিত হয়েছেন শত কষ্ট বুকে নিয়ে, এই মানুষগুলো যাতে দেশের আইন অনুযায়ী ন্যায়বিচার পেতে পারে তার একটি মাত্র উপায় হচ্ছে বাংলাদেশে আগামী দিনে অবশ্যই একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যে সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে কাজ করবে, যে সরকার যারা নির্যাতিত হয়েছেন, অত্যাচারিত হয়েছেন তাদের প্রতি ন্যায় বিচার করবে।

বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, আসুন আমরা আজকে সেই শপথ গ্রহণ করি, আমরা আজকে সেই প্রত্যাশা করি। আপনাদের আজকে এখানে আসা এখানে উপস্থিত হওয়া যাতে বৃথা না যায়। আরো যারা শহীদ আছেন আছেন প্রত্যেকটি মানুষ সময় লাগুক কিন্তু ধৈর্যের সাথে আমরা যাতে আপনাদের প্রতি যে অন্যায় হয়েছে সেই অন্যায়ের বিচার যাতে হতে পারে সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করি। আমরা ধৈর্য ধারণ করি, আমরা সজাগ থাকি যাতে আমাদের গণতান্ত্রিক যাত্রা যা শুরু হয়েছে তাতে ব্যাঘাত করতে না পারে।

তারেক রহমান বলেন, রাষ্ট্র কখনোই আপনাদেরকে ভুলে যেতে পারে না। সকল শহীদদের আত্মত্যাগকে সরণীয় করে রাখতে আগামী দিনে বিএনপি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের বাধ্যবাধগতার কারণে এই মুহূর্তে আমি হয়ত বিস্তারিতভাবে সেই পরিকল্পনা আজকের এই অনুষ্ঠানে তুলে ধরতে পারছি না। কিন্তু তারপর বলতে যদিও কষ্ট হচ্ছে যে আমরা দেখেছি নির্বাচন কমিশনের রিসেন্ট কিছু বিতর্কিত ভূমিকা বা বিতর্কিত অবস্থান।তারপরেও একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা ধৈর্যের পরিচয় দিতে চাই। তবে প্রজম্ম থেকে প্রজন্ম ধরে গণতান্ত্রিক মানুষ যেন এই শহীদদের বা এই গুম হয়ে যাওয়া সদস্য এখনো যাদের অপেক্ষায় আমরা আছি, এখনো যাদের অপেক্ষায় পরিবাররা রয়েছেন… সেই শহীদদের আত্মত্যাগ থেকে প্রেরণা লাভ করতে পারে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। আজ থেকে একগুলো বেশি সময় আগে আমি বলেছিলাম, আজ আবারো এই স্বজনহারা মানুষগুলোর সামনে আমি তুলে ধরতে চাই। সেটি হলো ইনশাআল্লাহ আমাদের দল বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে রাষ্ট্র গঠনে সরকার গঠনে সক্ষম হলে পরে আমরা এই শহীদ পরিবারদের নামে রাষ্ট্রে বা দেশের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক কিংবা রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পেশা স্থাপনার নামকরণ করব যাতে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই শহীদদেরকে গৌরবের সাথে স্মরণ রাখতে পারে।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় সহিংসতার শিকার পরিবারগুলোর প্রতি সাধ্যমতো রাষ্ট্রীয় সহায়তার হাত বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলেও আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি।

তারেক রহমান বলেন, গুম খুন অপরণের শিকার এইসব মানুষের শোকাতর পরিবারগুলোর আশা ভাষা হয়ে কাজ করে যাচ্ছে একটি সংগঠন মায়ের ডাক। ফ্যাসিবাদের শিকার মানুষদের প্রিয় মুখ হয়ে উঠেছে মায়ের ডাকে সানজিদা ইসলাম তুলি। দল হিসেবে সাধ্য এবং সামর্থ্যের সবটুকু নিয়ে নির্যাতিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়েছে আমরা বিএনপি পরিবার। দেড় শতকেরও বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের তীব্রতা কখনো কখনো হয়তো কিছুটা স্তিমিত হয়েছে কিংবা আন্দোলন কখনো তুঙ্গে উঠেছে এবং এই আন্দোলন করতে গিয়ে বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য গুম-খুন, অপরহণ মিথ্যা মামলার হয়রান- নির্যাতনের পর বিএনপির একজন নেতাকর্মীও কিন্তু রাজপথে ছাড়েনি। একই পরিবারের এক ভাই গুম হয়েছে আরেক ভাই গিয়ে তার জায়গায় পরের দিন রাজপথে আন্দোলনকে আরো তীব্রতর করার প্রতিজ্ঞার শপথ নিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, কৌশলের নামে গুপ্ত কিংবা সুপ্তবেশ ধারণ করেনি বিএনপির কর্মীরা। আমি বিশ্বাস করি, দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, যে দলের নেতাকর্মীরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের আপোষহীন ভূমিকা রাখতে পারে সেই দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র কিংবা অপপ্রচার চালিয়ে কেউ এই দলকে দমন করে রাখতে পারবে না ইনশাআল্লাহ। ফ্যাসিবাদী আমলের নির্যাতনের শিকার আমার সামনে বসা হাজারো প্রিয় মুখ…. আপনাদের বুকে আত্মত্যাগ, আপনাদের বুক ভরা কষ্ট আমরা যারা আজ পেছনে রয়ে গিয়েছি আমরা আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব যাতে এটি বৃথা না যায় ইনশাল্লাহ। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে যারা গুম হয়েছেন, যারা শহীদ হয়েছেন তাদের প্রতি আগামী দিনে এর গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষা আমরা দেখছি। সেই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং সরকারের অবশ্যই অনেক অনেক দায় এবং দায়িত্ব রয়েছে।

আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমনের সভাপতিত্বে মায়ের ডাকের সভানেত্রী সানজিদা ইসলাম তুলি, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য জাহিদুল ইসলাম রনি ও মোকসেদুল মোমিন মিথুনের যৌথ সঞ্চালনায় এই মতবিনিময় অনুষ্ঠানে গুম থেকে ফিরে আসা দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন আহমদ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক আতিকুর রহমান রুমন, প্রধান উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, রশিদুজ্জামান মিল্লাত, গুম হওয়া এম ইলিয়াস আলীর সহধর্মিনী তাহসিনা রুশদীর লুনাসহ গুম হওয়া পরিবারের সদস্যরা তাদের বেদনা ও কষ্টের কথা তুলে ধরেন।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর