Saturday 17 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হ্যাঁ ভোটের প্রচারণায় সিএসআরের টাকা ব্যয়ে প্রজ্ঞাপন দাবি ব্যাংকারদের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৩৪

ঢাকা: নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ উল্লিখিত সংবিধান সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ওপর আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশজুড়ে প্রচারণা শুরু করেছে ব্যাংকগুলো। সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকগুলোর প্রতিটি শাখার সামনে এখন সংস্কারের পক্ষে প্রচারপত্র ও ব্যানার টাঙানো হয়েছে। তবে সিএসআরের টাকা খরচে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন জারি না করায় ব্যাংকারদের মধ্যে অস্বস্তি বিরাজ করছে। তারা বাংলাদেশ ব্যাংকের মৌখিক নির্দেশনার পরিবর্তে প্রজ্ঞাপনের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর মতিঝিল, দিলকুশা ও পল্টনসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাংক শাখাগুলোর প্রবেশপথে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে। কোথাও সরাসরি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, আবার কোথাও ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’-এমন স্লোগানের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে। তবে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে ব্যাংকের টাকায় হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা করা যায় কি না।

ব্যাংকারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালাতে সিএসআরের অর্থ খরচ করতে সকল বানিজ্যিক ব্যাংকের এমডিদের মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ বিষয়ে কোন প্রজ্ঞাপন জারি করে নি। যা ব্যাংকারদের মধ্যে সংসয় ও বিমুখতা সৃষ্টি করেছে। এমনকি পরের সরকার তা নিয়ে জবাবদিহি করলে বিপদে পরতে পারেন এমন শঙ্কা করছেন তার্। তাই সঠিকভাবে দ্বিধাহীনভাবে কাজ করার জন্য সিএসআরের টাকা ব্যয়ে প্রজ্ঞাপন দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর জানান, অন্তবর্তীকালিন সরকার এই ইলেকশনের সঙ্গে জড়িত নয়। এই সরকারের একটাই লক্ষ্য কিছু সংস্কার করে যাওয়া। কারণ সবকিছু সম্ভব না। তাই আমরা কিছু হলেও সংস্কার করে যেতে চাই। ব্যাংকগুলো যেসব পয়েন্ট প্রচার করছে সেগুলোর সাথে কোনো রাজনৈতিক দল ভিন্নমত প্রকাশ করেনি। যেহেতু গণভোট হতে যাচ্ছে, তাহলে সেটা কি জনগণকে জানাবে না সরকার? শুধু ব্যাংক নয় আমরা মনে করে প্রত্যেকটা সচেতন নাগরিকের উচিৎ এই গণভোটের প্রচারণা চালানো। যেহেতু এটি জনকল্যাণমূলক বিষয়- তাই ব্যাংকগুলো হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারণা করতেই পারে।

গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর সোনালী, রূপালী, অগ্রণী ও জনতা ব্যাংকের একাধিক শাখায় ঘুরে দেখা গেছে ব্যাংকগুলো হ্যাঁ ভোটের পক্ষে প্রচারনামূলক ব্যনার টানিয়েছে। ব্যনারে লেখা, ‘গণভোট ২০২৬ সংসদ নির্বাচন। দেশের চাবি আপনার হাতে।

আপনি কি এমন বাংলাদেশ চান, যেখানে- তত্ত্বাবধায়ক সরকার, নির্বাচন কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) গঠনে সরকারি দল ও বিরোধী দল একত্রে কাজ করবে। সরকারি দল ইচ্ছেমতো সংবিধান সংশোধন করতে পারবে না। সংবিধানের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে গণভোটের বিধান চালু হবে। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার এবং গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটিসমূহের সভাপতি নির্বাচিত হবেন। যত মেয়াদই হোক, কেউ সর্বোচ্চ ১০ বছরের বেশি প্রধানমন্ত্রী থাকতে পারবেন না। সংসদে নারীর প্রতিনিধিত্ব পর্যায়ক্রমে বাড়বে। ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠার জন্য পার্লামেন্টে একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। দেশের বিচার ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে কাজ করবে। আপনার মৌলিক অধিকারের সংখ্যা (যেমন: ইন্টারনেট সেবা কখনও বন্ধ করা যাবে না) বাড়বে। দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ইচ্ছেমতো ক্ষমা করতে পারবেন না। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য থাকবে।

‘‘হ্যাঁ’’ ভোট দিলে উপরের সবকিছু পাবেন। ‘‘না’’ ভোট দিলে কিছুই পাবেন না। মনে রাখবেন পরিবর্তনের চাবি এখন আপনারই হাতে।

এবিবি চেয়ারম্যান ও সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন বলেন, প্রধান উপদেষ্টার অফিস থেকে এরই মধ্যে নির্দেশনা এসেছে ব্যাংকগুলোর প্রতিটা শাখায় ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উৎসাহিত করে দুটি করে ব্যানার ঝোলানোর। এর পাশাপাশি যেসব এনজিও বা প্রতিষ্ঠান এই জনসচেতনতার জন্য কাজ করবে, তাদের ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে সহায়তা দিতে বলা হয়েছে। আমরা এবিবির পক্ষ থেকেও টাকা দেব। আমি এই পদক্ষেপগুলোর পুরোপুরি পক্ষে। সাধারণ মানুষ বড় ধরনের সংস্কার চায়, দেশটা যেন ভালো থাকে।

মাসরুর আরেফিন আরও বলেন, এই সরকার সাধারণ সরকার নয়, এটা অন্তর্বর্তী সংস্কারমুখী সরকার। তাই এই সরকার এভাবে আমাদের সংস্কার বিষয়ে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে অবশ্যই বলতে পারে। আমরা ব্যাংকগুলো দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ‘হ্যাঁ’ ভোট বিষয়ে মানুষকে সচেতন করতে কাজ করব।

প্রসঙ্গত, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে মোট তিনবার গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রশাসনিক গণভোট এবং আরেকটি সাংবিধানিক গণভোট। প্রথম গণভোট হয়েছিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে ১৯৭৭ সালে। দ্বিতীয় গণভোট হয় রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের শাসনামলে ১৯৮৫ সালে। সবশেষ গণভোট ১৯৯১ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর