ফরিদপুর: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়ে ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এমএম হোসাইন ও তার সমর্থকদের দু’দফায় মারধর সহ লাঞ্চিত করার অভিযোগ ওঠেছে বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে ভাঙ্গা কোর্টপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। হামলার ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে সারা উপজেলাব্যাপী ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় উঠে।
হামলার ঘটনা নিয়ে এমএম হোসাইন জানান, আজ দুপুরে তার নেতাকর্মী দের নিয়ে ভাঙ্গা কোর্টপাড় এলাকায় অনিলদাসের মিষ্টির দোকানে মিষ্টি কিনতে যাচ্ছিলাম। এ সময় কোর্টপাড় এলাকায় বটতলার নিচে হটাৎ স্থানীয় উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক কুতুবউদ্দিন স্মরণ ও তার ১৫ /২০ জন নেতাকর্মীরা তাদের ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে (এমএম হোসাইন) আমার কলার ধরে টানা হেনস্থা করা হয়। এবং লাঞ্ছিতসহ সাটের বোতাম ছিড়ে ফেলেছে। পরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর হুমকি দিয়ে এই এলাকায় ভোট চাইতে নিষেধ করা হয়। এ সময় আমার সমর্থকেরা প্রতিবাদ করলে তাদেরকেও (সমর্থক) লাঞ্চিত ও মারধর করা হয়।
এমএম হাসানের নির্বাচন কর্মী হাসান মাতুব্বর জানায়, কোর্টপাড় থেকে লাঞ্চিত করার পর আমরা পৌরসভার অভিমূখে রওনা হই। এরপর ফের উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিমের বাসভবন খন্দকার টাওয়ারের সামনে ফের তাদের আরেক কর্মী এনায়েত মুন্সীকে বেধড়ক মারধর করেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। পরে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে আমরা সেখান থেকে নিরাপদ স্থানে চলে যাই। পরে থানায় অভিযোগ দেই। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে আইনগত বিচার দাবি করেন তারা।
অপরদিকে উপজেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক কুতুবউদ্দিন স্মরণ তার ও তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি দাবি করেন, স্থানীয় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে এনায়েত মুন্সীর সঙ্গে বিরোধ চলছে। সেই জেরেই তাদের মধ্যে সামান্য কথাকাটাকাটি হয়েছে ।
এ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব আলী মোল্লা জানান, ঘটনাটি সামান্য ভূলবুঝাবুঝি মাত্র। তবে নির্বাচনের সময়তো, অনেকেই বিষয়টিতে রঙ মাখানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।
এ বিষয় ফরিদপুর-৪ আসনে খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মিজানুর রহমান মোল্লা জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির কাছে তারা কেউই নিরাপদ নয়।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত বিচার দাবি করেন। তবে বিষয়টি প্রধান কমিশনকে জানানো হবে।
এ বিষয় থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুল আলিম জানান, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টির তদন্তকার্য চলছে।