ঢাকা: জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে এক কথায় গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জুলাই আন্দোলনে দেড় হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং প্রায় ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। এই সহিংসতার মাত্রা ও ব্যাপ্তি বিবেচনায় এটিকে গণহত্যা বলা ছাড়া অন্য কোনো শব্দ যথাযথ নয়।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানে শহিদদের পরিবার ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, জুলাই আন্দোলনে আহতদের মধ্যে এমন অনেক মানুষ রয়েছেন, যারা এক চোখ হারিয়েছেন কিংবা উভয় চোখই নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন। শহিদ ও আহতদের এই আত্মত্যাগের কারণেই ফ্যাসিবাদী শক্তি শুধু ক্ষমতা হারায়নি, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন কোনো ব্যক্তি, দল বা গোষ্ঠীর আন্দোলন ছিল না। এটি ছিল অধিকারবঞ্চিত মানুষের গণ-আন্দোলন। সে সময় স্বাধীনতাকামী সব মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। যারা এই আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে চায়, তাদের বিষয়ে গণতন্ত্রকামী মানুষকে সজাগ থাকতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেন।
হতাহতদের দায়িত্ব রাষ্ট্রের উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, আহতদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন দুইভাবে নিশ্চিত করা যেতে পারে। প্রথমত, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, তাদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত যোগ্যতা অনুযায়ী অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের ভোটে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে বিএনপি পর্যায়ক্রমে এসব দায়িত্ব পালন করবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, যাদের আমরা হারিয়ে ফেলেছি, তাদের আর ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। কিন্তু যারা পিছিয়ে পড়েছেন, তাদের দেখভাল করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব। সেই লক্ষ্যেই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের আদলে জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের দেখভালের জন্য আলাদা একটি মন্ত্রণালয় গঠনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।
দীর্ঘ দেড় যুগে গুম, নির্যাতন ও হত্যার শিকার অসংখ্য পরিবারের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শুধু জুলাই অভ্যুত্থানেই চৌদ্দশর বেশি মানুষ শহিদ হয়েছেন। এসব ঘটনা প্রমাণ করে দেশে গণতন্ত্র ও নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা কতটা জরুরি।
আগামী জাতীয় নির্বাচনকে নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ হলে দেশে শোকসভা আর শোকগাথাই চলতে থাকবে। তবে গণতন্ত্রকামী মানুষ আগামী বাংলাদেশে শোকগাথা নয়, গণতন্ত্রের বিজয়গাথা রচনা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।