Monday 19 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

স্বতন্ত্র বেতন স্কেলের দাবিতে জবি শিক্ষক সমিতির মানববন্ধন

জবি করেসপন্ডেন্ট
১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৬:৩৯ | আপডেট: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:২০

জবি: জাতীয় বেতন কমিশন কর্তৃক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ ও অবজ্ঞা প্রদর্শনের প্রতিবাদে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষক সমিতি।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের পাদদেশে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন জবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট বৈষম্য নিরসনের লক্ষ্যে সারাদেশব্যাপী যে আন্দোলন হয়েছিল, তার মূল প্রত্যাশা ছিল একটি বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গঠন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বৈষম্য দূর হওয়ার পরিবর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তা আরও বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, নিজেদের অস্তিত্ব ও মর্যাদা রক্ষার তাগিদেই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে আমাদের এই কর্মসূচিতে দাঁড়াতে হয়েছে।

অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন বলেন, বর্তমানে দেশে ৫৫টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েই শিক্ষক সমিতি সক্রিয়ভাবে আন্দোলন পরিচালনা করছে। গতরাতে শিক্ষক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক অনলাইন সভায় জাতীয় বেতন কমিশনের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয় এবং স্বতন্ত্র বেতন স্কেল প্রবর্তনে ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভাপতি প্রশ্ন তুলে বলেন, সরকার কি চায় না বিশ্ববিদ্যালয়ে মেধাবীরা আসুক? তারা কি চায় না গবেষণা ও উদ্ভাবনী শক্তি বৃদ্ধি পাক? সাব-কমিটি মোট ৩৩টি প্রস্তাব দিয়েছিল—যার মধ্যে ১০টি প্রস্তাবে কোনো আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ছিল না, ১৫টিতে সীমিত আর্থিক সংশ্লিষ্টতা ছিল এবং বাকি ৮টি প্রস্তাব পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের সুপারিশ ছিল। অথচ একটি প্রস্তাবও গৃহীত হয়নি।

অধ্যাপক ড. রইছ উদ্দীন আরও বলেন, এই অসম্মানজনক আচরণের প্রতিবাদে জাতীয় বেতন কমিশনের একজন সদস্য পদত্যাগ করেছেন। তিনি কমিশনের কার্যক্রমের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। বেগমপাড়ায় শিক্ষকদের কোনো বাড়ি বা সেকেন্ড হোম নেই। যাদের আছে তারাই সব সুবিধা নিচ্ছে, আর শিক্ষকেরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শিক্ষকদের সম্মানহানি করে গৃহীত কোনো সিদ্ধান্ত শিক্ষক সমাজ মেনে নেবে না। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এই আন্দোলনের সূচনা করে দেশের সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

মানববন্ধন থেকে জাতীয় বেতন কমিশনের বিশ্ববিদ্যালয়বিরোধী বৈষম্যমূলক আচরণের তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং সাব-কমিটির ৩৩টি প্রস্তাবের আলোকে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ন্যায্য সম্মান ও অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। দাবি মানা না হলে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্মিলিতভাবে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

মানববন্ধন কর্মসূচি সঞ্চালনা করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, বিভিন্ন দপ্তরের পরিচালক, শিক্ষক সমিতির সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দ, বিভাগীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নেতৃবৃন্দসহ অনেকে বক্তব্য দেন।

বিজ্ঞাপন

‘অ্যাভাটার ৪’-এ থাকবেন মিশেল ইয়ো
১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৭

নেটওয়ার্ক ছাড়াই হবে জরুরি কল!
১৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:০৮

আরো

সম্পর্কিত খবর