নীলফামারী: নীলফামারীর ডোমারে কিন্ডার গার্টেন স্কুলের ব্যবহৃত বই নতুন বলে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বই বিক্রির প্রতিষ্ঠান ‘বিচিত্রা বিপনী’ লাইব্রেরির বিরুদ্ধে। অভিযোগের বিষয়ে দোকান মালিক মসলেম উদ্দীন দায় অস্বীকার করে বিষয়টিকে প্রকাশনীর ভুল বলে দাবি করেন। তবে বইয়ের ভেতরে কলম দিয়ে লেখা নাম পাওয়া যাওয়ায় সেই দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিভাবক মোহাম্মদ রাশেদুল অভিযোগ করে জানান, তার সন্তান ডোমার আইডিয়াল একাডেমীর ‘কেজি’ শ্রেণিতে পড়ে। শিশুর জন্য ‘Active English Introductory বইসহ প্রয়োজনীয় সব বই এক প্যাকেটে কিনে নেন তিনি। পরে বাসায় নিয়ে বই খুলে দেখেন, বইয়ের ভেতরে কলম দিয়ে অন্য এক শিশুর নাম, শ্রেণী ও রোল লেখা রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে লাইব্রেরিতে যোগাযোগ করলে তারা নিজেদের দায় এড়িয়ে প্রকাশনীর ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করে এবং প্রকাশনীর বিরুদ্ধে মামলা করার পরামর্শ দেয়। এক পর্যায়ে চাপের মুখে বই বিক্রেতা বই পরিবর্তন করে দিতে চাইলেও তারা সেটি নেননি।
এ বিষয়ে শিক্ষার্থী আফিফা মাকসুরা জানায়, তার বাবা নতুন বই কিনে আনলেও বইয়ের ভেতরে কলম দিয়ে ‘সাদিয়া’ নাম, রোল এবং শ্রেণীর নাম লেখা ছিল।
এদিকে ওই লাইব্রেরির বিরুদ্ধে শিক্ষক, শিক্ষিকা ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকেও অভিযোগ উঠেছে। তাদের অভিযোগ, অন্যান্য দোকানের চেয়ে তুলনামূলক দাম বেশি নেন এবং দোকান মালিকের আচরণও অনেক সময় অসৌজন্যমূলক।
ডোমার আইডিয়াল অ্যাকাডেমির অধ্যক্ষ মাওলানা মসলেহুদ্দীন শাহ বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা লাইব্রেরির সঙ্গে কথা বলবো, যাতে তারা ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আরও সচেতন হয়।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘সেন্টার ফর এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড পাবলিকেশন্স (সিইআরপি)’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানায়, কলম দিয়ে লেখা অবস্থায় কোনো বই প্রকাশনা থেকে বাজারে দেওয়া সম্ভব নয়। তারা দাবি করেন, প্রিন্টিং মিসটেক হতে পারে, তবে বইয়ের ভেতরে হাতে লেখা থাকলে সেটি প্রকাশনার দায় নয়। লাইব্রেরি পুরাতন বই বিক্রি করে থাকতে পারে এবং চলতি বছর এই শ্রেণির বইয়ে বড় কোনো পরিবর্তনও আনা হয়নি বলে জানান তারা।
ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শায়লা সাঈদ তন্বী বলেন, ‘সংশ্লিষ্ট দফতরের সাথে কথা বলে মনিটরিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নীলফামারী ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. শামসুল আলম বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’