Tuesday 20 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের সূচনা করল বিএমইউ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২০ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:২০

-ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: বাংলাদেশের অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসায় নতুন এক দিগন্তের সূচনা করেছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ)। দেশের প্রথমবারের মতো রিজনাল অ্যানেস্থেসিয়া বিষয়ক ক্যাডেভার ওয়ার্কশপ আয়োজনের মাধ্যমে আধুনিক ও নিরাপদ অস্ত্রোপচার পদ্ধতিতে চিকিৎসকদের বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিএমইউ’র এ্যানেসথেশিয়া, এনালজেশিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার মেডিসিন বিভাগের পেইন মেডিসিন ডিভিশনের উদ্যোগে এ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষক হিসেবে এতে অংশগ্রহণ করেন ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব রিজনাল অ্যানেস্থেসিয়ার ক্যাডেভার ওয়ার্কশপের প্রধান প্রফেসর পল কেসলার। তিনি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী চিকিৎসকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেন।

বিজ্ঞাপন

কর্মশালায় চিকিৎসকদের রিজনাল অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগ, ব্যথা ব্যবস্থাপনা, আল্ট্রাসাউন্ড গাইডেড পদ্ধতি ও নিডলিং টেকনিক বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মোট ২০ জন চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন এবং মৃতদেহ (ক্যাডেভার)-এর ওপর সরাসরি অনুশীলনের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

বিশেষজ্ঞরা জানান, রিজনাল অ্যানেস্থেসিয়ার মাধ্যমে রোগীকে সম্পূর্ণ অজ্ঞান না করেই শরীরের নির্দিষ্ট অংশে অস্ত্রোপচার করা সম্ভব, যা রোগীর জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এবং অপারেশন পরবর্তী জটিলতা কমাতে সহায়ক। অপারেশনের সময় ও পরবর্তী ব্যথা ব্যবস্থাপনায় এই পদ্ধতি আধুনিক সার্জারির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত।

কর্মশালায় আরও জানানো হয়, ভবিষ্যতে বিএমইউতে এ ধরনের ক্যাডেভারভিত্তিক ওয়ার্কশপ বছরে অন্তত দুইবার আয়োজন করা হবে। আজকের এই আয়োজন বিএমইউ’র পেইন স্কিল অ্যান্ড পাস্টিনেশন ল্যাবকে ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব রিজনাল অ্যানেস্থেসিয়ার অ্যাক্রেডিটেশন অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। মানব মৃতদেহ ব্যবহার করে পরিচালিত এই প্রশিক্ষণে শারীরবৃত্তীয় গঠন, স্নায়ু ও পেশীর অবস্থান এবং ক্লিনিক্যাল প্রয়োগ সম্পর্কে বাস্তব অনুশীলনের সুযোগ তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ক্যাডেভারভিত্তিক প্রশিক্ষণ চিকিৎসকদের আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগীসেবার মানোন্নয়ন এবং জটিলতা হ্রাসে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম বলেন, এ ধরনের বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মশালা চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের এন্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স এবং হাসপাতালজনিত সংক্রমণ প্রতিরোধে আরও সতর্ক ও সচেতন হতে হবে।

বিএমইউ’র আইসিটি ডিরেক্টর ও অ্যানেসথেশিওলজিস্ট অধ্যাপক ডা. একেএম আখতারুজ্জামান কর্মশালায় সঞ্চালনায় করেন। এসময় আরও বক্তব্য দেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার এবং এভারকেয়ার হাসপাতালের অ্যানেসথেশিওলজিস্ট ডা. লুৎফুল আজিজ।

সারাবাংলা/এমএইচ/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর