ঢাকা: টানা তিন কার্যদিবসের উর্ধবগতির পর দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবস বুধবার (২১ জানুয়ারি) মূল্য সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। তালিকাভুক্ত বেশিরভাগ কোম্পানির দর কমায় সূচক কিছুটা কমার কারণে বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও কমেছে। সে কারণে সার্বিকভাবে টাকার অংকে লেনদেনও কমেছে।
বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, চলতি সপ্তাহে পুঁজিবাজার যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, তা সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে। তাদের আশা, নির্বাচনের পর সূচক ও লেনদেন উভয়ই নতুন মাইলফলকে পৌঁছাবে এবং বাজারে আবারও আগের সোনালি সময় ফিরে আসবে। টানা উত্থানের পর আজকের দর সংশোধনকে স্বাভাবিক বাজার প্রবণতা হিসেবে দেখছেন তারা, ফলে বিনিয়োগকারীরাও বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছেন।
সূত্র মতে, আগের তিন দিনের সূচকের বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালটা ছিল ইতিবাচক প্রবণতার। কিন্ত বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এক পর্যায়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে মুনাফা তোলার প্রবণতা দেখা দেয়। ফলে দ্রুত সূচকের উত্থান-পতন চলতে থাকে। দিনশেষে ডিএসইর প্রধান সূচক ‘ডিএসইএক্স’ ০৩ দশমিক ১০ পয়েন্ট কমেছে। বর্তমানে সূচকটি অবস্থান করছে ৫ হাজার ১০৫ পয়েন্টে।
ডিএসই’র অপর সূচক ‘ডিএসইএস’ ৩ দশমিক ২৮ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ২৭ পয়েন্ট এবং ‘ডিএস-৩০’ সূচক ৬ দশমিক ১৬ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৬৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
এছাড়া ডিএসই-তে ৬০৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ৬৬৯ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
এদিন ডিএসই-তে মোট ৩৮৯টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়েছে। লেনদেনে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দর বেড়েছে ১৩৬টি কোম্পানির, বিপরীতে ১৯২টি কোম্পানির দর কমেছে। পাশাপাশি ৬১ টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
অন্যদিকে, দেশের অপর পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক একচেঞ্জ (সিএসই) আজ শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে ১৩ কোটি ১৩ লাখ টাকার। আগের দিন সিএসই-তে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ১০ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।
আজ সিএসই-তে লেনদেন হওয়া ১৯৮টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮৬টির শেয়ার ও ইউনিট দর বেড়েছে, ৯১টির দর কমেছে এবং ২১টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিন সিএসইর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ৬ দশমিক ৯১ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ২৪৮ দশমিক ৩৬ পয়েন্টে। আগের কার্যদিবসে এই সূচক ৪৯ দশমিক ৫২ পয়েন্ট বেড়েছিল।