পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আলোচনার ছিলেন তিনি। মাঠ ও মাঠের বাইরে তার উপস্থিতি ও নানা মন্তব্য বরাবরই সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এবার বিপিএল থেকে সিলেট টাইটান্সের বিদায়ের পর দলটির উপদেষ্টা ফাহিম আল চৌধুরী করলেন বিস্ফোরক মন্তব্য। ম্যাচ শেষে তিনি দাবি করেছেন, ফিক্সিং ও বেইমানির কারণেই বাদ পড়েছে সিলেট!
বিপিএলের দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে বুধবার হেরে যায় সিলেট টাইটান্স। ১২ রানে জিতে ফাইনালে পৌঁছে যায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ারে হেরে যাওয়ার পর পদত্যাগের ঘোষণা করে তিনি মাঠ ছেড়ে যান। পরে গাড়ি ভেতর থেকে ফেসবুক লাইভে ভয়ঙ্কর কিছু অভিযোগ তিনি করেন।
ফাহিম অভিযোগ করেন, ‘প্রিয় বাংলাদেশ, প্রিয় সিলেটবাসী, আমি আপনাদেরকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাচ্ছি। আজকের ম্যাচটি ভীষণভাবে কলুষিত হয়েছে। আমার কাছে নির্ভরযোগ্য ও প্রমাণাতীত তথ্য এসেছে, ম্যাচের ভেতরে থাকা একজন ব্যক্তি নিজেকে বিক্রি করেছে। সে আমাদের সঙ্গে মিথ্যা বলেছে, সিলেটের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং সিলেট টাইটান্সের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, সিলেটের মানুষের আবেগের সঙ্গে সে নিষ্ঠুরভাবে বেইমানি করেছে।’
তিনি আরও জানান, ‘এর কোনো দরকারই ছিল না। সে চাইলে আমাকে বলতেই পারত, তার কত টাকা প্রয়োজন। তা দেওয়া হয়ে যেত। এই সত্য আমাকে সত্যিকারের ভেঙে দিয়েছে। এই ঘটনা আমি এখানেই থামতে দেব না, বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হবে এবং দায়ীর বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজকের হারটা ছিল পুরো একটা বেইমানির সঙ্গে হার। যারা ম্যাচটা দেখেছেন, আমি আপনাদেরকে আবারও বলব, আপনারা অনেকে বুঝে গেছেন, আমি কী বলতে চাচ্ছি। আপনারা সবাই ভালো থাকেন। এতটুকু আপনাদেরকে জানালাম, এই হারটা আমাদের হার ছিল না, এই হারটা হচ্ছে সম্পূর্ণ কম্প্রোমাইজড। এটা ফিক্সিং ছিল, বেইমানি করা হয়েছে সিলেটের সঙ্গে।’
এই ঘটনায় কাউকে ছার দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফাহিম, ‘তবে মানুষটা ভুল করে ফেলছে, সে ভুল জায়গায় হাত দিয়েছে। সে আমাদের সিলেটের আবেগের সঙ্গে হাত দিয়ে দিয়েছে। এই বিপিএল–টিপিএল সবকিছুই যে একটা বেইমানি, একটা জুয়ার ব্যবসা, এটা আমি আগে থেকে জানতাম। কিন্তু আমাদের সঙ্গে, আমাদের খেলোয়াড়রা সবাই আজকে ডিমোরালাইজড হয়ে গেছে। পুরো সিলেটের মানুষকে কান্না করানো হয়েছে বেইমানের কারণে। আমি কিন্তু তাকে এত সহজভাবে ছাড় দেব না। ভালো থাকেন আপনারা।’