রংপুর: রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রমেক) চিকিৎসকদের ওপর রোগীর স্বজনদের হামলার প্রতিবাদে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা দ্বিতীয় দিনের মতো অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি (ধর্মঘট) পালন করছেন। এতে রোগীদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয়ে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকাল থেকে ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে এবং দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ইন্টার্নরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জরুরি সেবা অব্যাহত থাকলেও সামগ্রিক চিকিৎসা কার্যক্রমে প্রভাব পড়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা গেছে, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি পালন করছেন এবং হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করছেন। রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া থেকে বিরত থেকে তারা নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ তুলছেন। হাসপাতালে উপস্থিত একাধিক রোগীর স্বজন জানান, হঠাৎ ধর্মঘটের কারণে তারা বিপাকে পড়েছেন। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেকে রোগীকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছেন।
এক রোগীর স্বজন বলেন, ‘ওয়ার্ডে ডাক্তার না থাকায় রোগীর অবস্থা খারাপ হচ্ছে, কিন্তু কোনো সহায়তা পাচ্ছি না।’
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস সোসাইটির সভাপতি ডা. সাদমান মীর মিরাজ বলেন, ‘মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাতে অপারেশন থিয়েটারে সার্জারি চলাকালীন রোগীর স্বজনরা মিড লেভেল চিকিৎসক, রেসিডেন্ট এবং ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালায়। এতে অপারেশনের কার্যক্রম বিঘ্নিত হয় এবং চিকিৎসকরা আহত হন। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। হামলাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি চলবে।’
মানববন্ধনে সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ডা. নাঈম শাহরিয়ারসহ অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসকরা উপস্থিত ছিলেন।
রমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকরা অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে কর্মবিরতি করছেন। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আশা করি দ্রুতই তারা কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেবেন।’
তবে ধর্মঘটের কারণে বিভিন্ন ওয়ার্ডে চিকিৎসা সেবায় কিছুটা প্রভাব পড়লেও জরুরি সেবা অব্যাহত রয়েছে বলে জানান তিনি। হামলার ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং পুলিশকে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বিভাগে স্বাস্থ্যসেবার প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় এই ধর্মঘটের প্রভাব উত্তরাঞ্চলের রোগীদের ওপর পড়ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আশা করছেন, আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।