আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর থেকেই ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ। আইসিসির সঙ্গে বেশ কয়েক দফা আলোচনার পরেও আসেনি সমাধান। অবশেষে ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবি জানিয়ে দিয়েছে, তারা ভারতের মাটিতে কিছুতেই ম্যাচ খেলতে যাবেন না। এমন সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক রশিদ লতিফ বলেছেন, বাংলাদেশের পক্ষ নিয়ে পাকিস্তানেরও উচিত এবারের টি-২০ বিশ্বকাপ বর্জন করা।
বাংলাদেশের ম্যাচগুলো যেন ভারতের পরিবর্তে শ্রীলংকায় সরিয়ে নেওয়া হয়, এই ইস্যুতে আইসিসিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছিল পাকিস্তান। জানা গেছে, আইসিসির ভোটাভুটিতে একমাত্র দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে ভোট দিয়েছে পাকিস্তান। একটা সময় গুঞ্জন উঠেছিল, পাকিস্তানও বাংলাদেশের মতোই বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দেবে। শেষ পর্যন্ত অবশ্য সেই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়েছে দেশটির গণমাধ্যমগুলো।
ভারতে না খেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কিছুক্ষণ পর ‘কট বিহাইন্ড’ নামের একটি ইউটিউব শোতে বাংলাদেশ ইস্যুতে কথা বলেন লতিফ। সাবেক এই অধিনায়ক বলেন, ‘পাকিস্তানের এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা উচিত। পাকিস্তান যদি এখন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বয়কট করে, তবে এই বিশ্বকাপ বড় বিপদে পড়বে। আমি এটা আগেও বলেছি, বাংলাদেশ যখন একবার কোনো কিছু করার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তারা সেটা করেই ছাড়ে। তারা প্রমাণ করে দিয়েছে যে বাংলাদেশের জন্য ভারত নিরাপদ দেশ নয়; আইসিসি, বিজেপি বা বিসিসিআই যাই বলুক না কেন।’
এ সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত বলে মনে করেন লতিফ, ‘এখন পাকিস্তানের কিছু করার সময়। এর চেয়ে ভালো সুযোগ আর আসবে না। পাকিস্তান যদি এখন না খেলে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়ে বয়কট করে, তাহলে এই বিশ্বকাপ শেষ।’
বাংলাদেশ ইস্যুতে এক্সেও সরব ছিলেন রশিদ লতিফ। এক্সে একটি পোস্টে সাবেক এই উইকেটকিপার লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারতকে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের জন্য নিরাপদ দেশ নয় বলে উল্লেখ করে ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সীমিত শক্তি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ তার ঐতিহ্য বজায় রেখে আইসিসিকে চ্যালেঞ্জ করেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কি একই ধরনের অবস্থান নেওয়ার সক্ষমতা রাখে?’