চট্টগ্রাম ব্যুরো: বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর অনেক আগেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড ময়দান। বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকদের স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে সমাবেশস্থল। মিছিলের পর মিছিল ছুটছে পলোগ্রাউন্ড অভিমুখে। পুরো পলোগ্রাউন্ড যেন একখণ্ড ধানের শীষের জমিনে পরিণত হয়েছে!
রোববার (২৫ জানুয়ারি) ভোরের আলো ফোটার পরপরই পলোগ্রাউন্ড ময়দানে বিএনপি নেতাকর্মীদের আনাগোণা শুরু হয়ে যায়। শীতের সকালের ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে কিশোর থেকে বৃদ্ধ, নানা বয়সী মানুষ আসতে থাকেন সেই ময়দানে। সকাল ৯টার মধ্যেই মাঠের বিশাল অংশ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়।
মঞ্চ থেকে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর সমাবেশে আসা নেতাকর্মী ও জনতা এবং শৃঙ্খলার দায়িত্বে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকদের নানা নির্দেশনা দিচ্ছেন। মঞ্চে নগর বিএনপির আরও কয়েকজন নেতা উপস্থিত আছেন।

ছবি: সারাবাংলা
চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে কেউ দলবেঁধে, কেউ মিছিল নিয়ে হেঁটে, কেউ রিকশা, অটোরিকশায় চড়ে যাচ্ছেন সমাবেশস্থলে। নগরীর বাইরে উপজেলাগুলো থেকেও দলে দলে আসছে মানুষ। বাস, মিনিবাস, টেম্পু, জিপ যারা যেভাবে পেরেছেন সকাল হতেই এসে গেছেন সমাবেশস্থলের আশপাশে। এরপর সেখান থেকে মিছিল নিয়ে যাচ্ছেন পলোগ্রাউন্ডে। বিভিন্ন যানবাহনের সামনে বিএনপির দলীয় পতাকা আর ধানের শীষ শোভা পাচ্ছে।
নেতাকর্মীদের কেউ কেউ মাথায় বেঁধেছেন দলীয় পতাকা। কারও কারও মাথায় লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। অনেকে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো ব্যানার-ফেস্টুন বহন করছেন।
বোয়ালখালী উপজেলা থেকে আসা প্রায় ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আহমদ হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘তারেক রহমানকে দেখার জন্য এসেছি। গতকাল (শনিবার) হোটেলে ঢোকার সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। কিন্তু মানুষ বেশি থাকায় দেখতে পারিনি। তাই আজ একেবারে সকালে চলে এসেছি।’
মীরসরাই উপজেলা থেকে আসা বিএনপি কর্মী ফয়সাল বলেন, ‘আমরা মীরসরাইয়ে বিএনপির প্রার্থী নুরুল আমিন চেয়ারম্যানের কর্মী। আমরা রাত থাকতেই মীরসরাই থেকে রওনা দিয়েছি। ভোরে এখানে এসে পৌঁছেছি। এখানে আমাদের নেতা তারেক রহমান যে নির্দেশনা দেন, সেটা নিয়ে এলাকায় ফিরে যাব। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমরা মীরসরাই থেকে আমাদের ধানের শীষের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জয়যুক্ত করবো, ইনশাআল্লাহ।’

সমাবেশে আসা নেতাকর্মীরা। ছবি: সারাবাংলা
চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘চট্টগ্রামের সকল থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট থেকে মিছিল নিয়ে আমাদের যুবদলের নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ, আজ পলোগ্রাউন্ড ময়দানে লাখো জিয়ার সৈনিক যুবক উপস্থিত থাকবেন।’
বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, তারেক রহমান সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর আগেই পলোগ্রাউন্ড মাঠ পেরিয়ে আশপাশের কয়েক কিলোমিটার এলাকা ছাড়িয়ে যাবে উপস্থিতি।
চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান তারেক রহমানের নির্বাচনি সমাবেশে ১৫ থেকে ২০ লাখ লোকের সমাগম ঘটানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছিলেন।
সকাল সাড়ে ১১টায় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রেডিসন হোটেল থেকে পলোগ্রাউন্ডে সমাবেশস্থলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। সমাবেশ শেষ করে সরাসরি ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন। পথে ফেনী, কুমিল্লা ও নারায়ণগঞ্জে আরও মোট ৫টি সমাবেশে যোগ দেবেন।
তারেক রহমান সর্বশেষ চট্টগ্রামে এসেছিলেন ২০০৫ সালে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচনি প্রচারে এসে তিনি নগরীর লালদিঘী ময়দানে জনসভা করেছিলেন। এরপর এক-এগারো পরবর্তী জরুরি অবস্থায় তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাবরণ করেন এবং একপর্যায়ে দেশ ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। দেড় দশক পর দেশে ফিরে তিনি তার বাবা জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বরণের স্মৃতিবিজড়িত চট্টগ্রাম শহরে আসছেন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে।