ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ ও গণনা বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা বা বিশেষ পরিপত্র জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ডিজিটাল প্রযুক্তির সমন্বয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবার কিউআর কোড ও বিশেষ সফটওয়্যার ব্যবহারের বিধান আনা হয়েছে।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন এই পরিপত্র জারি করে। পরিপত্রে বলা হয়-
১. ব্যালট বাক্স প্রস্তুত ও সংরক্ষণ: আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পর থেকেই ডাকযোগে পোস্টাল ব্যালট আসতে শুরু করেছে।
প্রতি ৪০০টি ব্যালট খামের জন্য একটি করে ব্যালট বাক্স ব্যবহার করবেন রিটার্নিং অফিসার। বাক্স লক করার সময় প্রার্থী বা তাদের নির্বাচনি এজেন্টদের উপস্থিত থাকতে লিখিতভাবে জানানো হবে। প্রতিটি বাক্সে চারটি করে সিল বা লক লাগানো হবে এবং সেগুলোর নম্বর উচ্চস্বরে পড়ে শোনানো হবে।
২. ডিজিটাল যাচাই ও কিউআর কোড স্ক্যানিং: পোস্টাল ব্যালট গ্রহণে এবার বিশেষ মোবাইল অ্যাপ ও সফটওয়্যার ব্যবহার করা হচ্ছে।
ভোটার ব্যালট খাম পাওয়ার পর ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপে লগইন করে খামের কিউআর কোড স্ক্যান করতে হবে। এতে তার ‘লাইভলিনেস’ বা স্বশরীরে উপস্থিতি যাচাই করা হবে। ভোটার যদি কিউআর কোড স্ক্যান না করেই ব্যালট ফেরত পাঠান, তবে সেটি সফটওয়্যারে শনাক্ত হবে না এবং ভোটটি বাতিল বলে গণ্য হবে। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে খাম পৌঁছানোর পর পুনরায় স্ক্যান করা হবে। যদি কোনো কিউআর কোড ‘ডুপ্লিকেট’ দেখায়, তবে সেই ব্যালটটিও বাতিল হবে।
৩. সময়সীমা ও গণনা পদ্ধতি:
ভোটগ্রহণের দিন অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ডাকযোগে আসা ব্যালটগুলো গণনায় অন্তর্ভুক্ত হবে। এর পরে আসা ব্যালটগুলো সরাসরি বাতিল হিসেবে গণ্য হবে। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় বা সুবিধাজনক স্থানে আসনভিত্তিক গণনা কক্ষ করা হবে। সাধারণ কেন্দ্রের মতোই প্রার্থী, নির্বাচনী এজেন্ট, পোলিং এজেন্ট, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা গণনার সময় উপস্থিত থাকতে পারবেন।
৪. ফলাফল প্রকাশ ও একত্রীকরণ:
পোস্টাল ব্যালট গণনার পর প্রিজাইডিং অফিসাররা সংসদ নির্বাচনের জন্য ফরম-১৬ক এবং গণভোটের জন্য ফরম-৪ অনুযায়ী ফলাফল প্রস্তুত করবেন। পরবর্তীকালে রিটার্নিং অফিসার সাধারণ কেন্দ্রের ফলাফলের সঙ্গে পোস্টাল ব্যালটের ফলাফল একত্র করে চূড়ান্ত ফলাফল (ফরম-১৮ ও ফরম-৭) ঘোষণা করবেন।
৫. প্রবাসী ভোটার ও পরিসংখ্যান:
‘ওসিভি-এসডিআই’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান জানান, প্রবাসীদের কাছে ইতিমধ্যে ব্যালট পৌঁছে গেছে এবং তারা ভোট দিয়ে ডাকযোগে পাঠাতে শুরু করেছেন। উল্লেখ্য, এবার ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দেওয়ার জন্য মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার নিবন্ধন করেছেন।