ঢাকা: দেশের সাত বিভাগে ২০০ শয্যা করে সাতটি মাদকাসক্ত নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্র চালুর প্রকল্প সরকার অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মাদক অপব্যবহারকারী ব্যক্তিদের সংখ্যা, ধরণ ও সংশ্লিষ্ট কারণসমূহ’ শীর্ষক জাতীয় গবেষণার ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।
হাসান মারুফ বলেন, দেশে মাদক ব্যবহার এখন আর কিছু বিচ্ছিন্ন মানুষের সমস্যা নয়, এটি একটি বিস্তৃত জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক সংকটে পরিণত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মাদকবিরোধী লড়াইকে একটি সামাজিক যুদ্ধ হিসেবে দেখতে হবে এবং পরিবার থেকেই এর প্রতিরোধ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সময় ও বাস্তবতা হলো দেশের মানুষ ক্রমেই মাদকাসক্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এটি ভাবার সুযোগ নেই যে, মাদক সমস্যা কেবল কিছু নির্দিষ্ট মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সামাজিক অবক্ষয়, মানসিক চাপ ও ভুল সঙ্গের কারণে কিশোর ও তরুণরা খুব সহজেই মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এই বাস্তবতা অস্বীকার করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।
ডিএনসি মহাপরিচালক বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। সমাজের সব স্তরের মানুষকে সম্পৃক্ত করে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠন- সবাইকে একসঙ্গে দায়িত্ব নিতে হবে। পরিবার থেকেই যদি প্রতিরোধ শুরু না হয়, তাহলে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ একা কার্যকর হবে না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার এবং এই গবেষণার প্রধান গবেষক বিএমইউ’র ডীন অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সীসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
গবেষণা থেকে জানা যায়, দেশে বর্তমানে ৮২ লাখ মানুষ কোনো না কোনো ধরণের অবৈধ মাদক ব্যবহার করছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪.৮৮ শতাংশ। আর এই মাদক ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই তরুণ। প্রায় ৩৩ শতাংশ ব্যবহারকারী ৮ থেকে ১৭ বছর বয়সে বা শিশু বয়সে প্রথম মাদক গ্রহণ শুরু করেছে। আর ৫৯ শতাংশ ব্যবহারকারী ১৮ থেকে ২৫ বছর বয়সে প্রথম মাদক নেওয়া শুরু করেছে। তবে এই গবেষণায় সিগারেট সেবনকে মাদক ব্যবহার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, বিভাগভেদে মাদক ব্যবহারের হারে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রযেছে। মযমনসিংহে বিভাগে ৬.০২ শতাংশ, রংপুরে ৬ শতাংশ ও চট্টগ্রামে ৫.৫০ শতাংশ বিভাগে মাদক ব্যবহারের হার সবচেযে বেশি।
অন্যদিকে রাজশাহী বিভাগে ২.৭২ শতাংশ ও খুলনা বিভাগে ৪.০৮ শতাংশ তুলনামূলকভাবে কম হার লক্ষ্য করা গেছে। সংখ্যার বিচারে সর্বাধিক মাদক ব্যবহারকারী বসবাস করছে ঢাকা বিভাগে প্রায় ২২.৯ লাখ, এরপর রযেছে চট্টগ্রামে ১৮.৮ লাখ ও রংপুর বিভাগে প্রায় ১০.৮ লাখ।