Sunday 25 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

১১ দলের প্রার্থীদের জন্য ভোট চাইলেন কর্নেল অলি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১২

ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম।

ঢাকা: ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের জন্য ভোট চেয়ে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, এই জাতির সঙ্গে যারা বেঈমানি করবে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবে না। নিজের মঙ্গল নিজে করেন। ১১ দলীয় জোটের যে যেখানে আছে তাদেরকে ভোট দিয়ে এই দেশকে চিরকালের জন্য মোদির সেবাদাসদের হাত থেকে মুক্ত করেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ধুপখোলা মাঠে ঢাকা-৬ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের প্রার্থী আবদুল মান্নানের জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ও এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক নাসীর উদ্দীন পাটোয়ারী।

বিজ্ঞাপন

কর্নেল অলি আহমদ বলেন, আপনাদের অনেকের মনে প্রশ্ন মুক্তিযোদ্ধা এখানে কেন এসেছে। আপনাদের হয়তো অনেকের জানা নেই, ২০০১ সালের পর বিএনপির সঙ্গে অনেকগুলো বিষয় নীতিগতভাবে আমি মেনে নিতে পারিনি। ১৯৭১ সালে একজন ক্যাপ্টেন হিসেবে যুদ্ধ করেছিলাম।

তিনি বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেওয়ান হাট নামক জায়গা থেকে ফিরিয়ে এনেছিলাম। ওনাকে না আনলে পাঁচ মিনিটের মধ্যে গুলি করে উনাকে কর্নফুলিতে ফেলে দিত। পরে দুইজনে গিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলাম। লক্ষ্যটা কি ছিল। একটা ন্যায় ভিত্তিক সমাজ হবে। অর্থনৈতিক মুক্তি হবে। দেশের মানুষ সুখে শান্তিতে বসবাস করবে।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ২৫ বছর কি দেখেছি। ভারতের দালালেরা মোদির দাসেরা দেশ পরিচালনা করেছে। এখন জাতিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ওইদিনও বলেছি বিএনপি আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় দেখেছেন। জামায়াতের নিজামী সাহেব ও মুজাহিদ সাহেবকে দেখেছেন। ২০০৮ সালে আমরা কয়েকজন নিজামী সাহেব ও মুজাহিদ সাহেব ছাড়া সবাই দুর্নীতির দায়ে জেলে আবদ্ধ ছিল। আজকে দেশের কি অবস্থা। আমরা কাপড় পাল্টাচ্ছি, কিন্তু দুর্নীতি থেকে বের হতে পারিনি। চাঁদাবাজি থেকে বের হতে পারিনি।

ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রমবলেন, আমরা যারা মঞ্চে বসে আছি এবারের যুদ্ধ আমাদের শেষ যুদ্ধ। এ যুদ্ধ হবে ১৯৭১ সালের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। ভারতের দাসত্বমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। যেখানে ধনি গরীব কারও বিচারে বৈষম্য থাকবে না। আজকে সমাজে ইনসাফ নাই। আমরা ওয়াদাবদ্ধ। নতুন বাংলাদেশ উপহার দিতে চাই। জাতিকে চিন্তা করতে হবে। আজকে যারা আমাদের বিরুদ্ধে আছে তারা নিজেকে দিল্লির সেবাদাস হিসেবে নিজেকে পরিচিত করেছে। আমরা সেবাদাসদের হাতে বাংলাদেশকে হস্তান্তর করতে পারি না। তাদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে হবে।

এলডিপির এই নেতা বলেন, বিএনপির মহাসচিব বলেছিল আগস্ট মুভমেন্টে তাদের কোনো অংশগ্রহণ ছিল না। এটা তার কথা। তাহলে বিএনপি এখন যে অবস্থায় আছে এটা তারা চায়নি। তারা হাসিনাকে চেয়েছিল। আর আপনারা এক হাজার ৪০০ এর ওপরে শহিদ হয়ে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য দরকার ইনসাফের সমাজ। তাই সমগ্র জাতিকে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অনুরোধ করব।

তিনি বলেব, নামাজে যান, আবেগে কাজ করবেন না। সেজদায় যান, নিজের বিবেককে জিজ্ঞাসা করেন। মার্কা দেখে ভোট না দিয়ে কারা দেশের জন্য কাজ করবে আর কারা মোদির দালালি করবে এটা চিহ্নিত করেন।

তিনি আরও বলেন, দালালদেরকে ভোট দিলে হাসিনার মতো অত্যাচারিত হবেন। কেউ আপনাদের মুক্তি দিতে পারবে না। সব জাতিকে এক জায়গায় অবস্থান নিতে হবে। আজকে ১১ দলীয় প্রার্থীরা যে যেখানে আছে তাদের ভোট দিতে হবে।

এ সময় তিনি ড. আবদুল মান্নান ও নাসীর উদ্দীন পাটোয়ারীকে ডেকে বলেন, দুজন দুই পাসে, মুক্তিযোদ্ধা মধ্যখানে। এই জাতির সাথে যারা বেইমানি করবে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করবে না। নিজের মঙ্গল নিজে করেন। ১১ দলীয় জোটের যে যেখানে আছে তাদেরকে ভোট দান করে এই দেশকে চীরকালের জন্য মোদির সেবাদাসদের হাত থেকে মুক্ত করেন।

সমাবেশে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা বক্তব্য দেন। এছাড়া জুলাই শহিদ শেখ মেহেদী হাসানের বাবা জামাল, নেজামী ইসলামী পার্টির মহাসচিব মুছা বিন ইজহার, ইসলামী ছাত্র শিবিরের সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি রিয়াজুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য দেন।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/ইআ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর