ঢাকা: জাতীয় পার্টিসহ (জাপা) যেসব রাজনৈতিক দল বিগত বছরগুলোতে আওয়ামী লীগকে ‘ফ্যাসিবাদী’ হয়ে উঠতে সহযোগিতা করেছে, তাদের নিবন্ধন বাতিলের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদ।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে নির্বাচন কমিশন (ইসি) যুগ্ম সচিব মঈন উদ্দীন খান-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি জমা দেয় সংগঠনটির নেতৃবৃন্দ। সাক্ষাৎ শেষে ছাত্র অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সানাউল্লাহ হক সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
সানাউল্লাহ হক বলেন, বিগত দিনে যারা ফ্যাসিবাদের চর ও ভারতের দোসর হিসেবে কাজ করেছে এবং যাদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় আওয়ামী লীগ দানবে পরিণত হয়েছে, তাদের নিবন্ধন বাতিল ও আসন্ন নির্বাচন থেকে বিরত রাখার দাবি জানিয়ে আমরা স্মারকলিপি দিয়েছি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০১৪ সালের বিনা ভোটের নির্বাচন, ২০১৮ সালের মধ্যরাতের ভোট ডাকাতি এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনে অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টি আওয়ামী লীগ সরকারকে রাজনৈতিক বৈধতা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ যে অপরাধ করেছে, জাতীয় পার্টিও সমান অপরাধী। আমরা জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছিলাম, কিন্তু তা কার্যকর না হওয়ায় আমরা কেবল ইসি নয়, বর্তমান সরকারকেও দায়ী করছি।
সানাউল্লাহ হক জানান, জাতীয় পার্টির বর্তমান কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তারা আগামীকাল সোমবার প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টি এখনো ভোটের বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছে, কিন্তু এ ব্যাপারে সরকারের কোনো কঠোর ভূমিকা আমরা দেখছি না।
ছাত্র অধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নাজমুল হাসান ইসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, “যাদের কারাগারে থাকার কথা, তারা প্রকাশ্যে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ও শেখ হাসিনার পক্ষে কথা বলছে। অথচ নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা আমাদের তিন ঘণ্টা বসিয়ে রেখে পরে দেখা করেছেন। জাতীয় পার্টির মতো দল যারা মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছে, তাদের প্রতি ইসির নমনীয়তা আমাদের অবাক ও আতঙ্কিত করেছে।”
নাজমুল হাসান আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন ৪৫ জন ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের ভোট করার সুযোগ দিচ্ছে যা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “দিল্লির গোলাম হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টিকে আসন্ন নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে এবং দলটির নিবন্ধন বাতিল করতে হবে।