ঢাকা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, এর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ভোটগ্রহণ শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে সব ধরনের প্রচার কাজ বন্ধ করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এ উপলক্ষে ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা ২০২৫’ জারি করেছে ইসি। জনভোগান্তি রোধ ও সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে এতে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
জনসভা ও প্রচারণার সাধারণ নিয়ম
বিধিমালার ৬ (ঙ) ধারা অনুযায়ী, জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো সড়ক, মহাসড়ক বা জনপথে জনসভা, পথসভা বা কোনো ধরনের সমাবেশ করা যাবে না।
* প্রচারণার ক্ষেত্রে সব প্রার্থী সমান অধিকার পাবেন।
* প্রতিপক্ষের কর্মসূচিতে কোনোভাবেই বাধা বা ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না।
* জনসভার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি নিতে হবে। আবেদনের ক্রম অনুযায়ী (আগে আসলে আগে পাবেন ভিত্তিতে) অনুমতি দেওয়া হবে।
* সভার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে স্থানীয় পুলিশকে অবহিত করতে হবে এবং একটি সভায় ৩টির বেশি মাইক্রোফোন বা লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না।
* পোস্টার ও প্রচার সামগ্রীতে নতুনত্ব
এবারের নির্বাচনে প্রচারণায় পরিবেশ সুরক্ষায় বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে:
* সাদা-কালো প্রচার: ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া অন্য সব প্রচার সামগ্রী (ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুন) অবশ্যই সাদা-কালো হতে হবে।
* প্লাস্টিক নিষিদ্ধ: রেক্সিন, পলিথিন বা প্লাস্টিকের মতো অপচনশীল দ্রব্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
* ছবি ব্যবহারের সীমাবদ্ধতা: প্রচার সামগ্রীতে প্রার্থী নিজের ছবি ও দলীয় প্রতীক ছাড়া অন্য কারো ছবি ব্যবহার করতে পারবেন না।
* আকার নির্ধারণ: ব্যানারের আকার সর্বোচ্চ ১০×৪ ফুট, লিফলেট এ-ফোর সাইজ এবং ফেস্টুন ১৮×২৪ ইঞ্চি হতে হবে।
* যানবাহন ও স্থাপনায় বিধিনিষেধ
বাস, ট্রাক, ট্রেন, লঞ্চ বা রিকশাসহ কোনো যানবাহনেই প্রচারণা সামগ্রী লাগানো যাবে না।
* সরকারি স্থাপনা, দেয়াল, গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি বা কোনো ভবনে লিফলেট বা ফেস্টুন লাগানো নিষিদ্ধ।
* অন্য প্রার্থীর পোস্টার বা ব্যানারের ওপর নিজের প্রচারণা চালানো বা কারো পোস্টার বিকৃত করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
* যান্ত্রিক যানবাহন (বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল) নিয়ে কোনো মিছিল বা শোডাউন করা যাবে না। মশাল মিছিলও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
* তোরণ, ক্যাম্প ও বিলবোর্ড
রাস্তায় কোনো প্রকার গেইট বা তোরণ নির্মাণ করা যাবে না।
* চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন কোনো নির্বাচনি ক্যাম্প তৈরি নিষিদ্ধ।
* বিলবোর্ড: প্রতিটি ইউনিয়নে বা মেট্রো ওয়ার্ডে একটি করে, পুরো নির্বাচনি এলাকায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। এর সর্বোচ্চ আকার হবে ১৬×৯ ফুট।
* আচরণবিধি ও ধর্মীয় পবিত্রতা
নির্বাচন কমিশন স্পষ্ট জানিয়েছে, ব্যক্তিগত কুৎসা রটনা, লিঙ্গ বৈষম্যমূলক বা সাম্প্রদায়িক উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া যাবে না। মসজিদ, মন্দির, গির্জা বা কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ ব্যয় বা বলপ্রয়োগ করা হলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।
জনগণের ভোগান্তি ঘটিয়ে নির্বাচনি সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ: ইসি
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৩
২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩৩
সারাবাংলা/এনএল/এসআর