ঢাকা: আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমের উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ বাড়ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ভাতার হার ৫০ টাকা বাড়ানো হবে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি’র ৩২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ সভায় সভাপতিত্ব করেন।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, অনুষ্ঠিত সভায় ১৫টি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি/কার্যক্রমের আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উপকারভোগীর সংখ্যা ও ভাতার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হচ্ছে-
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত বয়স্ক ভাতা কার্যক্রমের উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ বাড়িয়ে ৬২ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫৯ লাখ ৯৫ হাজার বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ৬৫০ টাকার স্থলে ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন এবং ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ২ লাখ ৫ হাজার জন বয়স্ক ব্যক্তি মাসিক ১০০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ২৯ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতার মধ্যে ২৮ লাখ ৭৫ হাজার জন মাসিক ৬৫০ টাকার স্থলে ৭০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন এবং ৯০ বছর ঊর্ধ্ব ২৫ হাজার বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা মাসিক ১০০০ টাকা হারে ভাতা পাবেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত প্রতিবন্ধী ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি কার্যক্রমে ৩৬ লাখ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির মধ্যে ৩৫ লাখ ৮১ হাজার ৯০০ জন মাসিক ৯০০ টাকা হারে এবং ১৮ হাজার ১০০ জন মাসিক ১০০০ টাকা হারে প্রতিবন্ধী ভাতা পাবেন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৪ লাখ ৫০ হাজার প্রতিবন্ধী ব্যক্তি প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছেন।
অন্যদিকে, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি/মেধাবৃত্তির মাসিক হার ৫০ টাকা বাড়িয়ে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চতর স্তরে যথাক্রমে ৯৫০ টাকা, ১০০০ টাকা, ১ হাজার ১০০ টাকা এবং ১ হাজার ৩৫০ টাকায় উন্নীত করা হয়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে উপকারভোগীর সংখ্যা ৭ হাজার জন বৃদ্ধি করে মোট ২ লাখ ২৮ হাজার ৩৮৯ জনে উন্নীত করা হয়। পাশাপাশি, মাসিক ভাতার হার ৬৫০ টাকার স্থলে ৭০০ টাকায় উন্নীত করা হয়।
অন্যদিকে, অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি/মেধাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ হাজার ১৯৮ জন বাড়িয়ে মোট ৪৫ হাজার ৩৩৮ জনে উন্নীত করা হয়। অনগ্রসর শিক্ষার্থীদের বৃত্তি/মেধাবৃত্তি মাসিক হার প্রাথমিক, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চতর স্তরে যথাক্রমে ৭০০ টাকা, ৮০০ টাকা, ১০০০ টাকা এবং ১ হাজার ২০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রমে মোট ৫ হাজার ৪৯০ জন অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত ক্যান্সার, কিডনি, লিভার-সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রমের উপকারভোগীর সংখ্যা ৫ হাজার বৃদ্ধি করে ৬৫ হাজার জনে উন্নীত করা হয়। পাশাপাশি, এককালীন চিকিৎসা সহায়তার পরিমাণ ৫০ হাজার টাকার স্থলে দ্বিগুণ করে ১ লাখ টাকায় উন্নীত করা হয়েছে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাভুক্ত মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৪ হাজার বৃদ্ধি করে ১৮ লাখ ৯৫ হাজার ২০০ জনে উন্নীত করা হয়। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় একজন মা মাসিক ৮৫০ টাকা হারে ভাতা পেয়ে থাকেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খাদ্যবান্ধব কর্মসূচিতে সুবিধাভোগী পরিবারের সংখ্যা ৫ লাখ বাড়িয়ে ৬০ লাখ উন্নীত করা হয়ে। এ কর্মসূচিতে প্রতি পরিবার কেজি প্রতি ১৫ টাকা দরে মাসে ৩০ কেজি করে মোট ৬ মাস খাদ্য সহায়তা পেয়ে থাকেন।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৩২তম সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মাসিক ভাতার হার ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি করা হয়। এ সভায় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহতদের মাসিক সম্মানি ভাতা এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ভিজিএফ কার্যক্রমকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির কার্যপরিধিভুক্ত করার সুপারিশ করা হয়।
এছাড়া সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২ লক্ষ ৭৩ হাজার ৫১৪ জন জেলেকে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করে মোট ১৫ লক্ষ জেলেকে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়।