ঢাকা: ঢাকা-৯ আসনের বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, দীর্ঘদিন রিমান্ড ও কারাভোগের শিকার হলেও তিনি প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। বরং ঐক্যের রাজনীতির মাধ্যমেই এলাকার উন্নয়ন ও একটি ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই তাঁর লক্ষ্য।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাজধানীর খিলগাঁও থানাধীন ৭৫ নম্বর ওয়ার্ডের নাকদার পাড়ায় নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধন ও মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, “আমি ৮৬ দিন ডিবির রিমান্ডে ছিলাম, শতাধিক মামলা ছিল, সাতবার কারাগারে গিয়েছি। তারপরও বলছি, আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি চাই না।” তিনি আরও বলেন, দলমত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা-৯ আসনের উন্নয়ন করতে চান তিনি।
নিজেকে এলাকার সন্তান উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই এলাকার অলিগলি তাঁর চেনা। রাজনৈতিক, সামাজিক ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের সূত্র ধরে এলাকার মানুষের ভালোবাসার দাবি নিয়েই তিনি ভোট চাইছেন। তিনি আশ্বাস দেন, ভবিষ্যতে এই এলাকায় কোনো প্রতিহিংসার রাজনীতি হবে না।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সর্বোচ্চ ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত হলে দলের কাছেও এলাকার মানুষের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। “৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভোটার ভোট দিলে ঢাকা-৯ এর কণ্ঠস্বর উপেক্ষিত হবে না,” বলেন তিনি।
৩৮ বছরের রাজনৈতিক জীবনের কথা তুলে ধরে হাবিব বলেন, তাঁর কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে তিনি ভোট চাইবেন না। তবে ক্ষতিগ্রস্ত না হলে এলাকার সন্তান হিসেবে ভোট দাবি করার অধিকার রাখেন তিনি।
তিনি জানান, বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফার আলোকে আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে। সেই বাংলাদেশ শুধু বিএনপির নয়, দেশের কল্যাণে বিশ্বাসী সবার হবে।
দলের শৃঙ্খলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দলের কেউ অন্যায় বা দুর্নীতিতে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বল্পমেয়াদি সুবিধা পেলেও দীর্ঘমেয়াদে খারাপ কাজের কোনো ভবিষ্যৎ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এলাকার সমস্যা তুলে ধরে তিনি বলেন, ঢাকা-৯ এলাকায় রাস্তা, ব্রিজ, স্কুল, হাসপাতাল, গ্যাস ও পানির সংকট রয়েছে, পাশাপাশি জলাবদ্ধতার সমস্যাও প্রকট। এসব নাগরিক সুবিধা পাওয়ার অধিকার এলাকার মানুষের রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সুযোগ পেলে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সমস্যার সমাধানে কাজ করবেন।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনের পর হারিয়ে যাওয়া জনপ্রতিনিধি হতে চান না। তিনি এলাকায় থাকবেন, রাস্তায় রাস্তায় ঘুরবেন এবং জনগণ তাঁকে হাতের কাছেই পাবে। কেউ ভোটারদের হয়রানি করলে তার ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।