ঢাকা: ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এলাকায় নির্বাচনি প্রচার চালিয়েছেন ঢাকা-৮ আসনে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন প্রচার।
এ সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, টেলিকমিউনিকেশন কর্মচারী সমিতি, সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারীদেরকে জোর করে নির্বাচনি প্রচারে নিয়ে যাচ্ছে। এটি নির্বাচনি আইন বহির্ভূত। নির্বাচন কমিশন মাঠে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড রাখতে পারছে না। তারা একটি দলের প্রতি অন্ধ ও বধির হয়ে আছে।
নাসীরুদ্দীন বলেন, ঢাকা মেডিকেলের কর্মকর্তা, কর্মচারী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তাদেরকে জোর করে নির্বাচনি প্রচারণায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কারণ এখানে অনেক ফিলান্সিং জব রয়েছে। এগুলো আগে আওয়ামী লীগ চালাত। এখন অন্য ব্যক্তিরা চালাচ্ছে। কাজেই আমরা যদি সুষ্ঠু একটি ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে না যেতে পারি, তাহলে এই ধরনের পরিস্থিতি বিরাজ করবে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় নার্স, চিকিৎসক বুক পেতে আহতদের সেবা করেছেন। তবে বাংলাদেশে স্বাস্থ্যক্ষেত্র ভূতুরে অবস্থা রয়েছে। রোগী বাসায় যেটুকু সুস্থ থাকে, এখানে আসার পর আরও বেশি অসুস্থ হয়ে যায়। এখানে অনেক সিন্ডিকেট রয়েছে। আমরা যদি এসব সিন্ডিকেট ধ্বংস না করি, তাহলে দেশ উন্নত হবে না। আমরা ক্ষমতায় আসলে মেডিকেল নিজ উদ্যোগে উন্নত করব।
নাসীরুদ্দীন আরও বলেন, শেখ হাসিনার সময় ঢাকা মেডিকেলে একটি কলা, একটি ডিম দিয়ে পুকুর চুরির দুর্নীতি করেছিল। সেই ব্যস্ততা পরিবর্তন হয় নাই। ঔষধ, জিনিসপত্র সরবারহে পুরতান সিন্ডিকেট রয়েছে। আমরা ক্ষমতায় আসলে সকল হাসপাতালে সব সিন্ডিকেট ভেঙে দিব। বিভিন্ন রুম দখল করে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন হয়েছে, আমরা তা ভেঙে দিব। চিকিৎ নার্স বেতন বৈষম দূর করব, মর্যাদা নিশ্চিত করব। স্বাস্থ খাতের নিয়ন্ত্রণ নিব, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন করব। বেতন বৈষম্য কমাব। ঢাকা মেডিকেলের সামনে মাদকের আখড়া। আমরা নির্বাচিত হলে মেডিকেল, বুয়েটের সামনের মাদকের আড্ডাখানা ভেঙে দিব।
তিনি বলেন, দুদককে ৫০ বছর ধরে অকার্যকর করে রাখা হয়েছে। দুদকে ফাইল যায়, কিন্তু অপেন হয় না। আমরা দুদককে শক্তিশালী করব। ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত বংলাদেশে যেই দুর্নীতি হয়েছে, অবিচার হয়েছে, আমরা সেগুলোর বিচার করব। ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পরে মির্জা আব্বাস রাজউকের ফ্ল্যাট বিতরণ করেছিল, অনিয়ম, দুর্নীতি করেছিল। সেই ফাইলগুলো ও ৫ তারিখের পরে ২টি মামলা উঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এসব দুর্নীতির বরপুত্র যারা রয়েছে, আমরা তাদের ফাইলগুলো নতুন করে ওপেন করে তাদেরকে যথাযথ বিচারের মধ্যে নিয়ে আসব।