Wednesday 28 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নির্বাচনি আচরণবিধি বাস্তবায়নে কমিশনের উদ্যোগ ইতিবাচক: মাহ্দী আমিন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৪৫

– ছবি : সারাবাংলা

ঢাকা: নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনে নির্বাচন কমিশনের সাম্প্রতিক উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একই সঙ্গে এ বিষয়ে কমিশনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সকল রাজনৈতিক দল ও নাগরিককে নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে, যা অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। ওই বিজ্ঞপ্তিতে কমিশন উল্লেখ করেছে যে, নির্বাচনি প্রচারণার আড়ালে কিছু ব্যক্তি ভোটারদের ব্যক্তিগত তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহ করছে—যা কমিশনের নজরে এসেছে। অথচ ‘জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন আইন ২০১০’ অনুযায়ী অন্যের জাতীয় পরিচয়পত্র বহন বা হস্তান্তর সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর বিধি-৪ অনুযায়ী কোনো রাজনৈতিক দল, প্রার্থী কিংবা তাদের পক্ষে কেউ নির্বাচনি এলাকায় বসবাসকারী ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের চাঁদা, অনুদান বা উপহার প্রদান কিংবা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন না। এসব কার্যক্রম শাস্তিযোগ্য অপরাধ। নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে সকলকে সতর্ক করেছে এবং আচরণবিধি মেনে সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। বিএনপি এই অবস্থানকে স্বাগত জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন অভিযোগ করেন, একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতারা নতুন করে ফ্যাসিবাদী আমলের পুরোনো মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ‘দুর্নীতির বিশ্বচ্যাম্পিয়ন’ বয়ান প্রচারে নেমেছেন।

তিনি বলেন, এটি জাতীয়ভাবে প্রমাণিত যে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে দুর্নীতির হার ধারাবাহিকভাবে কমেছে। গত ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের সময় আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের দুর্নীতির স্কোর ছিল ০.৪, যা আগের সরকারের সময়কার প্রতিফলন। বিএনপির জিরো টলারেন্স নীতি ও সুশাসনের ফলে ২০০৬ সালে সরকার ছাড়ার সময় সেই স্কোর বেড়ে দাঁড়ায় ২.০-এ। এমনকি স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন গঠনের কৃতিত্বও বিএনপির।

তিনি বলেন, বিস্ময়কর বিষয় হলো—২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ওই রাজনৈতিক দলটিই সরকারের অংশ ছিল। তাদের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য থাকা সত্ত্বেও তখন তারা দুর্নীতির বিষয়ে কোনো আপত্তি তোলেনি। অথচ এখন নির্বাচনি মাঠে এসে একই দল ফ্যাসিবাদী প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে, যা রাজনৈতিক দ্বিচারিতারই প্রমাণ।

মাহ্দী আমিন আরও অভিযোগ করেন, ভোট চাইতে গিয়ে ওই দল ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার করছে। জান্নাতের প্রলোভন দেখানো, কোরআন শরিফে শপথ করানো, এমনকি বিকাশ নম্বরে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। যারা নিজেরাই টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা করছে, তাদের মুখে দুর্নীতির গল্প জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, একটি নির্বাচনি জনসভায় বগুড়ায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন ও পৌরসভাকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার যে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, তা নতুন কিছু নয়। এই দুইটি সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অনুমোদিত এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে। বিদ্যমান সিদ্ধান্তকে নতুন প্রতিশ্রুতি হিসেবে তুলে ধরে বগুড়াবাসীকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সাম্প্রতিক নির্বাচনি সফরে ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও উত্তরায় বিপুল জনসমাগমের কথা উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, গভীর রাত পর্যন্ত সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও উৎসবমুখর উপস্থিতি প্রমাণ করে—তারেক রহমানই আজ জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক। এই গণসমর্থন গণতান্ত্রিক, সমতাভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রগঠনে জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নতুন অনুপ্রেরণা দিয়েছে।

এ সময় তিনি নওগাঁর সাপাহার উপজেলার একটি মসজিদের মুয়াজ্জিন আল আমিন চৌধুরীকে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কারণে চাকরি থেকে অব্যাহতির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান এবং অবিলম্বে তার পুনর্বহালের দাবি করেন।

এছাড়া সিলেটে একটি রাজনৈতিক দলের প্রার্থীর বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে পুলিশ কাউকে জিজ্ঞাসা ছাড়া কারও বাড়িতে যেতে পারবে না—এ ধরনের বক্তব্য অসাংবিধানিক ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী। একজন সংসদ সদস্য প্রার্থীর এমন বক্তব্য কর্তৃত্ববাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করে তিনি এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলাই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রধান শর্ত। এ ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বশীল ভূমিকা গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে—এটাই বিএনপির প্রত্যাশা।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর