Thursday 29 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জামায়াতের সঙ্গে যেসব আলোচনা হলো মার্কিন রাষ্ট্রদূতের

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৩:২৫

ঢাকা: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) সকালে বৈঠক করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। এ সময় তাদের মধ্যে কি নিয়ে আলোচনা হয়েছে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দলটির কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানান, বিশেষ করে নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। তিনি (মার্কিন রাষ্ট্রদূত) জিজ্ঞাসা করেছেন নির্বাচনের অবস্থা কি, পরিবেশটা কি, আমাদের প্রস্তুতি কি।

রাষ্ট্রদূত বলেছেন, তিনি নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। তার কিছু অভিমত ব্যক্ত করেছেন। আমাদের বিষয়ে তিনি জানতে চেয়েছেন। আমরা বলেছি নির্বাচনের জন্য যে লেভেল প্লেইং ফিল্ড সেটি দেখতে পাচ্ছি না। একটি বড় দলের পক্ষ থেকে আমাদের ওপরে নিয়মিত হামলা হচ্ছে। আপনারা জানেন গতকাল ২৮ জানুয়ারি শেরপুরে আমাদের নেতাকর্মীদের ওপরে হামলা হয়েছে। ঝিনাইগাতী উপজেলা সেক্রেটারিকে হত্যা করা হয়েছে। আরও অনেককে আহত করা হয়েছে। গত এক সপ্তাহ আমাদের মহিলা কর্মীদের ওপর অব্যাহতভাবে হামলা হচ্ছে। গতকালকেও হয়েছে। আমরা বলেছি, এসমস্ত বিষয়গুলো খুব উদ্বেগ তৈরি করছে। জনগণ যাতে নির্বিঘ্নে তার ভোটটা দিতে পারে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা উচিত।

বিজ্ঞাপন

এহসানুল মাহবুব বলেন, বাংলাদেশের সংস্কারের বিষয়গুলি নিয়ে তারা জানতে চেয়েছেন। সামনে নির্বাচনের পাশাপাশি যে গণভোট হবে সে বিষয়ে আমাদের অবস্থান জানতে চেয়েছেন। রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের সহযোগীতার কথা বলেছেন। এছাড়াও বাংলাদেশের আর্থসামাজিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, পরবর্তীতে সরকারে যারাই আসুক তাদের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে বলেছেন। আমাদের অবস্থানটা জানতে চেয়েছেন। আমরা সরকারে আসলে সবাইকে নিয়ে একটি ইনক্লুসিভ সরকার গঠন করবো। সে বিষয়ে তারা বুঝতে চেয়েছেন যে এটা আসলে কি? এ সমস্ত বিষয় নিয়ে চমৎকার আলোচনা হয়েছে। প্রায় এক ঘণ্টা তারা ছিলেন।

জুবায়ের বলেন, মার্কিন রাষ্ট্রদূত যাওয়ার পর ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মিলার এসেছিলেন তিনি প্রায় আধাঘণ্টা ছিলেন। তিনিও ইলেকশনের বিষয়সহ সার্বিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। নারীদের ওপর হামলা শেরপুরের ঘটনাসহ নির্বাচনের পরিস্থিতি নিয়ে তাদের উদ্বেগ উৎকণ্ঠার কথা তারাও বলেছেন, আমরাও বলেছি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন, অন্তবর্তী সরকার এবং বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে। তারা এ বিষয়টি অবজার্ভ করছেন, তাদের পক্ষ থেকে অবজার্ভার পাঠিয়েছেন। তারা বলেছেন, বৃহত আকারে পর্যবেক্ষক দল পাঠিয়েছি। এ ব্যাপারে তারা তাদের অবস্থান স্পষ্ট করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জামায়াতের সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত সংবাদ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে জুবায়ের বলেন, সে বিষয় নিয়ে আলোচনা ঠিক সেভাবে হয়নি। যেটা হয়েছে সেটা বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচন, পরবর্তীতে সরকার কি হতে পারে। এসমস্ত বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। যারাই আসুকনা কেন তাদের সঙ্গে তারা কাজ করতে চান। যুক্তরাষ্ট্র অতীতেও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ডেভেলপমেন্ট পার্টনার। তাদের বক্তব্য থেকে আমাদের কাছে যেটা মনে হয়েছে, তারা বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সরকারের অবস্থান বিবেচনায় নিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য বোঝার চেষ্টা করছেন। সবমিলিয়ে বাংলাদেশে একটি ফ্রি, ফেয়ার এবং পিসফুল ইলেকশন হোক এবং ক্ষমতার ট্রানজিশনটা যাতে খুব স্মুথলি হয় এ সমস্ত বিষয় নিয়েই তারা আমাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর