ঢাকা: শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমের হত্যার ঘটনায় ঝিনাইগাতী উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ জানিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারি সেক্রেটারি ও প্রচার বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, আমরা অবিলম্বে শহীদ রেজাউল করিমের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষিদের গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। সেই সাথে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের ভূমিকা তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করছি।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে মগবাজারে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। এ সময় ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এহসানুল মাহবুব বলেন, গত এক সপ্তাহে অনেকগুলো দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে বুধবার (২৮ জানুয়ারি) ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে শেরপুরের ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী উপজেলার সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি আসনের প্রার্থীদের নিয়ে ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মীর অব্যাহত উস্কানির কারণে ১১ দলীয় জোট ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে একদল সন্ত্রাসী কুপিয়ে হত্যা করে।
তিনি বলেন, ঘটনার সুত্রপাত হয় ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত প্রার্থী ও তার নেতাকর্মীরা যথাসময়ে অনুষ্ঠানস্থলে আসলেও বিএনপি প্রার্থী ও তার কর্মীরা বিলম্বে আসেন। তখন স্থানীয় প্রশাসন দুই দলকে অর্ধেক অর্ধেক আসনে বসার অনুরোধ করেন। এ সময় জামায়াত প্রার্থী কিছু আসন বিএনপির জন্য ছেড়ে দিতে বলেন। জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল তার দলের নেতাকর্মীদের আসন ছেড়ে দিতে বললে তারা কিছু আসন ছেড়ে দেন। এরপর ওই আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেল ও বিএনপি নেতা আব্দুল হান্নানসহ নেতাকর্মীরা অব্যাহতভাবে উসকানি দিতে থাকেন। ওই দুজনের উসকানির কারণে বিএনপি নেতাকর্মীরা হাতাহাতিতে লিপ্ত হয়। এ সময় পুলিশ প্রশাসন বিএনপি নেতাকর্মীদের নিষ্কৃয় না করে বরং দর্শকের ভূমিকা পালন করেন। এক পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা প্রার্থী মাহমুদুল হক রুবেলসহ স্টেডিয়াম থেকে বের হয়ে দক্ষিণে ঝিনাইগাতী বাজারে এবং মাঠে অবস্থান নেয় ১১ দলীয় প্রার্থী ও সমর্থকরা। এ সময় বিএনপি সমর্থক ফাহমী গোলন্দাজ সোহেল জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলকে জবাই করা হবে বলে ফেসবুকে স্টাটাস দেন। এ অবস্থায় ঝিনাইগাতী বাজারে বিএনপি নেতাকর্মীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়। তারা জামায়াত প্রার্থীকে স্টেডিয়াম থেকে বের হতে না দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন বিএনপি নেতাদের রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করলেও তারা অস্বীকৃতি জানায়। প্রশাসনের সহযোগিতা না পেয়ে জামায়াত প্রার্থী সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে নেতাকর্মীদের নিয়ে বাজারে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা লাঠি এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পরে। তাদের প্রতিরোধ করতে গেলে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে জামায়াত নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে উত্তর পশ্চিম দিকে চলে যান। পেছনে পড়ে যান জামায়াতের শ্রীবরদী উপজেলা সেক্রেটারি রেজাউল করীম। তাকে একা পেয়ে কুপিয়ে আহত করে রেখে যান বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এ ঘটনায় জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৬ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা ও গুরুতর আহত তিনজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
তিনি বলেন, আমরা মনে করি পুরো ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং প্রশাসনের ব্যর্থতার চিত্র স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। প্রথম অবস্থায় পুলিশ সহযোগিতা করলে ঘটনা ঘটতো না সেটা না করে তারা দর্শকের ভূমিকা পালন করে। সেনাবাহিনী সংঘর্ষ বন্ধের চেষ্টা করে। এ সময় সেনাবাহিনীর একজন সদস্য আহত হন।
তিনি বলেন, গত এক সপ্তাহ সারাদেশে জামায়াতের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়েছে। নারীদের ওপর হামলা করা হয়েছে। প্রশাসনকে বার বার জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেই। প্রশাসনের এক পাক্ষিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা বলতে চাই, প্রশাসন তাৎক্ষনিক হস্তক্ষেপ করলে এ ঘটনা ঘটতো না।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন শুরু হওয়ার পর প্রথম শহিদ হয়েছেন ঢাকা-৮ এ শহিদ ওসমান হাদি। এরপর সুনির্দিষ্টভাবে বিএনপির প্রার্থীর নেতৃত্বে তার উসকানিতে এই ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা মনে করি। সন্ত্রাসীরা আগে থেকেই ছিল। তাদের উদ্দেশ্য ছিল জামায়াত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদলকে হত্যা করা। সন্ত্রাসীরা যদি এ ধরণের কাজ অব্যাহত রাখে তাহলে আমরা ১১ দলীয় জোট এক হয়ে তাদের প্রতিহত করবো। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যত পদক্ষেপ কামনা করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, জামায়াত নেতা মাওলানা আবদুল হালিম, জাহিদুল ইসলাম, ওলি উল্লাহ নোমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, এলডিপির আমান সোবহান, জাগপার জিয়াউল আনোয়ার, খেলাফত মজলিসের আবদুল হাফিজ খসরু, ডেভেলপমেন্ট পার্টি শহীদুল আনোয়ারসহ অন্যান্যরা।