Thursday 29 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আপনারা থাকবেন না হয় আমরা থাকব: এসপিকে ক্র্যাব সভাপতি

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:০৩ | আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:১৪

ঢাকা: নরসিংদীর মাধবদীতে আয়োজিত বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব) ফ্যামিলি ডে অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের সকলকে আগামি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। নাহলে চেয়ারে থাকতে পারবেন না বলে পুলিশকে হুশিয়ারি দিয়েছেন ক্র্যাবের সভাপতি মির্জা মেহেদি তমাল।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্র্যাব চত্বরে আয়োজিত প্রতিবাদ ও মানববন্ধনে ক্র্যাব সভাপতি মির্জা মেহেদি তমাল এই হুশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, হামলাকারী ১৩ জনের নামে মামলা করা হয়েছে। সিসিটিভি দেখে চিহ্নিত করা হয়েছে। উল্লেখিত সময়ের মধ্যে বাকী ১০ জনকে গ্রেফতার করতে হবে। নাহলে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক ও মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন নিজ নিজ চেয়ারে থাকতে পারবেন না। ৭২ ঘণ্টা পর ঢাকার রাজপথ অচল করে দেওয়া হবে। যদি চেয়ারে থাকতে চান তাহলে দ্রুত সময়ের মধ্যে হামলাকারী চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করুন। এর ব্যত্যয় ঘটলে আমরা আপনাদের চেয়ারে থাকতে দিবো না।

বিজ্ঞাপন

ক্র্যাব সভাপতি বলেন, গত ২৬ জানুয়ারি সন্ত্রাসী হামলার পর সাংবাদিকরা দুজনকে ধরিয়ে দেয়। এরপর পুলিশ একজনকে গ্রেফতার করে। অথচ আসামি সংখ্যা ১৩ জন। গত তিন দিনে আর একজন আসামিকেও গ্রেফতার করতে পারেনি। চাঁদাবাজদের পুলিশ শেল্টার দেয় এরকম অভিযোগও উছেছে।

ক্র্যাবের আয়োজনে মানবন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে এজাহার নামীয় আসামিদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছবি প্রকাশের দাবি জানানো হয়। দাবি মানা না হলে নরসিংদী থানার ওসি জেলার এসপির অপসারণের জন্য বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

ক্র্যাবের সহসভাপতি জিয়া খান বলেন, ক্র্যাবের ইতিহাসে এই হামলার ঘটনা জঘন্যতম একটি অধ্যায়। এই দিনটিকে ক্র্যাবের জন্য কালো দিন হিসেবে ঘোষণা করার দাবি জানান তিনি। একইসাথে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইজিপিকে একটি স্বারকলিপি দিয়ে চাঁদাবাজদের সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের অবিলম্বে অপসারণ করারও দাবি তোলেন তিনি।

প্রতিবাদ সভায় ক্র্যাব সাধারণ সম্পাদক এম এম বাদশাহ্ বলেন, ভিডিও এবং সিসি ক্যামেরার ফুটেজে শনাক্ত হওয়া আসামিদের এখনো গ্রেফতার না করা প্রশাসনিক গাফিলতি। ঘটনার পরপরই অভিযান শুরু না করে দীর্ঘরাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে আসামিদের পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছে পুলিশ। তিনি দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেফতার করার আহ্বান জানান।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বা আইজিপি কেউই ক্র্যাবের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। আহতদের দেখতেও যাননি যা খুবই দুঃখজনক। নরসিংদীতে যারা সাংবাদিকদের হামলা করেছে তারা চিহ্নিত চাঁদাবাজ। তাদের সঙ্গে পুলিশের যোগসাজশ রযেছে। কারণ পুলিশও ওইসব চাঁদাবাজদের কাছ থেকে ভাগ পায়। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়ায় তিনি নরসিংদী জেলার এসপি ও থানার ওসির অপসারনের দাবি জানান।

ডিইউজে সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলম বলেন, ক্রাইম রিপোর্টাররা যখন আঘাতপ্রাপ্ত তখন বোঝাই যায় দেশের কি অবস্থা। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা স্পষ্ট। সাগর-রুনির হত্যার বিচার না হওয়ায় সাংবাদিকদের ওপর এ হামলা বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতারের দাবি জানান তিনি।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আবু সালেহ আকন নরসিংদীর ঘটনা ফিলিস্তিনের ওপর ইসরায়েলের হামলার সঙ্গে তুলনা করে বলেন, যা খুবই ন্যাক্কারজনক। তিনি অবলিম্বে আসামি গ্রেফতার না হলে ঢাকা অচল করার হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, স্বাধীনভাবে কথা বলার জন্যই শেখ হাসিনাকে তাড়িয়ে দিয়েছে এদেশের মানুষ।
সরকারের সংশ্লিষ্টদের কার্যক্রমে ক্ষোভ প্রকাশ করে আবু সালেহ আকন বলেন, এদের দিয়ে কিছু হবেনা। যে কারনে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছেনা। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে আসামীদের গ্রেফতার করা না গেলে কঠোর কর্মসুচির হুশিয়ারি দেন ডিআরইউ সভাপতি।

ডিফেন্স জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (ডিজাব) সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন বলেন, সাংবাদিকরা কারো বন্ধু নয়। যে কারণে কোন ঘটনার শিকার হলে সাংবাদিকদের পাশে কেউ এগিয়ে আসেনা। সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে হামলার ঘটনার মূল হোতাকে চিহ্নিত করা দাবি জানান তিনি। ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি খায়রুজ্জামান কামাল বলেন, ঘটনার পর পুলিশকে অবগত করা হলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। যা খুবই দুঃখজনক।

প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন, ক্র্যাবের সাবেক সভাপতি মধুসূধন মন্ডল, কামরুজ্জামান খান, সাবেক সহ-সভাপতি শাহীন আব্দুল বারী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মো. মোমিন হোসেন, ঢাকা জার্নালিস্ট কাউন্সিলের সভাপতি ইকরামুল কবীর টিপু, পলিটিক্যাল রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি কাওসার মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ আলী, রিপোর্টার্স এগেইনস্ট করাপশনের (র‌্যাক) সভাপতি সাফিউদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক তাবারুল হক, সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি মাসুদুল হক, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল্লাহ বাদল, ল রিপোর্টার্স ফেরামের সভাপতি হাসান জাবেদ, ঢাকা মেডিকেল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বাবু, ট্রান্সপোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি আজিজুল হাকিমসহ আরো অনেকে।

এ সময় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সদস্য ক্র্যাব কার্যনির্বাহী কমিটির নেতৃবৃন্দ ও ক্র্যাব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সারাবাংলা/ইউজে/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর