ঢাকা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে পোস্টাল ব্যালট নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটের মাত্র তিন দিন আগে অর্থাৎ ৮ ফেব্রুয়ারির পর আদালতের আদেশে কেউ প্রার্থিতা ফিরে পেলেও পোস্টাল ব্যালটে তাদের নাম বা প্রতীক যুক্ত করা সম্ভব হবে না।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবন মিলনায়তনে এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ কথা জানান।
ইসি সচিব জানান, বর্তমানে দেশ ও প্রবাস মিলিয়ে বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান। তিনি বলেন, “আদালতের আদেশে কেউ প্রার্থিতা ফিরে পেলে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আমরা তা পোস্টাল ব্যালটে অন্তর্ভুক্ত করতে পারব। কিন্তু এর পরে হলে তা আর সম্ভব নয়। কারণ ব্যালট ছাপিয়ে ভোটারের কাছে পাঠানো এবং তা ফেরত পাওয়ার জন্য যে ন্যূনতম সময় প্রয়োজন, ৮ তারিখের পরে সেই সময় হাতে থাকবে না।”
উল্লেখ্য, বর্তমানে ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ২,০১৭ জন। ইতোমধ্যে সাড়ে ৭ লাখের বেশি পোস্টাল ব্যালট পাঠানোর কাজ চলছে। প্রবাসীদের কাছ থেকেও ৫৫ হাজারের বেশি ফিরতি খাম কমিশনে পৌঁছেছে।
জামায়াতের প্রতীক প্রত্যাহারের আবেদন নাকচ
এদিকে, ১০ দলীয় জোটের সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে ৭টি আসনে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীক প্রত্যাহারের আবেদন করেছিল জামায়াতে ইসলামী। তবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় (২০ জানুয়ারি) পেরিয়ে যাওয়ায় এই আবেদন নাকচ করে দিয়েছে ইসি।
বৃহস্পতিবার জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেলকে পাঠানো এক চিঠিতে ইসি জানায়, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২ অনুযায়ী, প্রত্যাহারের সময় পার হওয়ার পর প্রতীক পরিবর্তনের কোনো আইনি সুযোগ নেই।
যেসব আসনে প্রতীক পরিবর্তনের সুযোগ নেই: চট্টগ্রাম-৮ ও ১২, নরসিংদী-২ ও ৩, ভোলা-২, নারায়ণগঞ্জ-৩ এবং সুনামগঞ্জ-১। এসব আসনে এনসিপি, এলডিপি, খেলাফত মজলিস ও নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থীর সঙ্গে জামায়াতের সমঝোতা হয়েছিল।
নির্বাচনী প্রচারণার ব্যানারের পরিমাপের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ব্যানার তৈরি করতে হবে ১০ ফুট বাই চার ফুট। এই হচ্ছে আচরণ বিধিমালায়।
ব্যানার রঙিন করা যাবে না। কিন্তু ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ডে রঙিনটা আসার কথা। পিভিসি যদি ব্যবহার করে থেকে থাকে তাহলে সেটা আচরণবিধির ব্যতিক্রম এবং রিটার্নিং অফিসাররা সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পর্যবেক্ষকদের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ইউএস গভর্নমেন্ট স্পন্সরড অবজারভার আসবেন না। কিন্তু ইউএস থেকে অবজারভার আসবেন, তারা ইন্ডিপেন্ডেন্ট। অবজারভারদের তালিকার পদ্ধতি যেটা আছে, সে পদ্ধতি অনুসরণ করেই আসবেন।