Thursday 29 Jan 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘটে স্কপের সমর্থন, বন্দর ভবনে বিক্ষোভ

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:৪৯ | আপডেট: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ২১:২১

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে বিএনপিপন্থী দুই শ্রমিক সংগঠনের ডাকা ধর্মঘটে সর্বাত্মক সমর্থন দিয়েছে শ্রমিক-কর্মচারি ঐক্য পরিষদ (স্কপ)। এদিকে ধর্মঘট কর্মসূচি ঘোষণার পর দুই শ্রমিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে গিয়ে বিক্ষোভ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন থেকে ধর্মঘটের প্রতি সমর্থনের পাশাপাশি স্কপের কর্মসূচি ঘোষণা করেন ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র (টিইউসি) চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি ও শ্রম সংস্কার কমিশনের সদস্য তপন দত্ত।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর আগ্রাবাদে একটি রেস্তোঁরায় সংবাদ সম্মেলন করে ধর্মঘটের কর্মসূচি ঘোষণা করে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল এবং চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের সাবেক সিবিএ। এতে আগামী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরের সমস্ত অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ রেখে সর্বাত্মক ধর্মঘট পালনের ডাক দেওয়া হয়। একইভাবে পরদিন রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালনের আহ্বান জানানো হয়। রোববার বিকেল ৫টায় আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানানো হয়।

এরপর বিকেলে স্কপের সংবাদ সম্মেলন থেকে ধর্মঘটের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন ও পূর্ণ সহযোগিতা ঘোষণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সকল শ্রমিক-কর্মচারিদের এ কর্মসূচিতে একাত্ম হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এছাড়া স্কপের পক্ষ থেকে আগামী ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দর ভবন অভিমুখে কালো পতাকা মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে তপন দত্ত বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারার চুক্তি করবে সরকার। অথচ এর মাত্র ১০ দিন পরেই ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে চুক্তি করার জন্য সরকার পাগল হয়ে গেছে। কার স্বার্থে আমরা এটা জানতে চাই। বিদ্যমান সময়ে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন ছাড়া এই সরকারের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার নৈতিক অধিকার কিংবা আইনগত বৈধতা নেই। জাতীয় সম্পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত কেবল জনগণের নির্বাচিত সংসদের মাধ্যমেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে।’

এরপরও সরকার যদি জাতীয় মতামত উপেক্ষা করে একরোখাভাবে এনসিটি ইজারা দেওয়ার চেষ্টা চালায়, তবে এদেশের সচেতন জনগণ ও শ্রমজীবী মানুষ তা কখনো মেনে নেবে না। এর ফলে যদি কোনো গণআন্দোলন বা গণবিস্ফোরণ ঘটে, তার সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই বহন করতে হবে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন সারাবাংলাকে বলেন, ‘এনসিটি বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে আমরা আগামী শনিবার ও রোববার বন্দরে ৮ ঘণ্টা করে ধর্মঘট আহ্বান করেছি। এরপরও সরকার যদি এনসিটি হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত বাতিল না করে, তাহলে রোববার বিকেলের পর থেকে বন্দর অচল করে দেওয়ার মতো কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

এ সময় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি এস কে খোদা তোতন, স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক ও টিইউসি চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক ইফতেখার কামাল খান, কাজী আনোয়ারুল হক হুনি, ইমরান হোসেন, আল কাদেরী জয়, বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা হুমায়ুন কবির, ডক শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দর ভবনে বিএনপিপন্থী দুই সংগঠনের শ্রমিক-কর্মচারিরা বিক্ষোভ করেছেন। প্রথমে তারা বন্দর ভবনের সামনে থেকে মিছিল শুরু করেন। মিছিলটি বন্দর ভবন চত্বরে ঘুরে একপর্যায়ে প্রশাসনিক ভবনের ভেতরে প্রবেশ করে। বন্দর চেয়ারম্যানের কক্ষের সামনে তারা বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের পর বিকেলের দিকে বন্দর ভবনের ফটকের সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সারাবাংলা/আরডি/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর