রংপুর: বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের দীর্ঘ ২০ বছর পর রংপুর সফরকে কেন্দ্র করে উত্সাহ ছড়িয়ে পড়েছে নেতাকর্মীদের মাঝে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে বিশাল জনসভায় মাগরিবের নামাজের পর বক্তব্য দেবেন তারেক রহমান। সেখানে তিনি রংপুর বিভাগের ৮ জেলার ৩৩টি সংসদীয় আসনের মনোনীত প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেবেন। এরই মধ্যে বিভাগের বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা এবং গ্রামীণ এলাকা থেকে হাজারো নেতাকর্মী মাঠে সমবেত হচ্ছেন।
শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও চত্বরে জায়ান্ট স্ক্রিন (এলইডি স্ক্রিন) স্থাপন করা হয়েছে। এসব স্ক্রিনের মাধ্যমে কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠের মূল মঞ্চ থেকে তার বক্তব্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে, যাতে মাঠে না আসতে পারা হাজারো মানুষও তার ভাষণ দেখে ও শুনতে পারেন। দলীয় সূত্র ও স্থানীয় প্রস্তুতি কমিটির তথ্য অনুসারে, শহরের সুরভী উদ্যান, ডিসি মোড়, জিলা স্কুল মোড়, পোস্ট অফিস মোড়, পুলিশ লাইন্স মোড়, সিটি বাজারসহ অন্যান্য কয়েকটি কেন্দ্রীয় স্থানে এই জায়ান্ট স্ক্রিনগুলো বসানো হয়েছে।

বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু জানিয়েছেন, তারেক রহমান জুমার নামাজ শেষে বগুড়া থেকে রওনা দিয়ে প্রথমে পীরগঞ্জে জুলাই অভ্যুত্থানে প্রথম শহিদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বিকেল সাড়ে ৪টার পর কালেক্টরেট ঈদগাহ মাঠে পৌঁছাবেন। মাগরিবের নামাজের পর তিনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন।
দুলু বলেন, তারেক রহমানের আগমনে রংপুর বিভাগের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ভোটার ও সাধারণ জনগণের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়েছে। আমরা আশা করি, ঈদগাহ মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হবে এবং এটি একটি জনসমুদ্রে রূপান্তরিত হবে।
গত কয়েক দিন ধরে মাঠ প্রস্তুত করেছে মঞ্চসজ্জা কমিটির সদস্যরা। তারা জানিয়েছেন, মঞ্চ এরই মধ্যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। শুক্রবার সকালে বিএনপির জেলা কমিটির সদস্যরা মঞ্চ পরিদর্শন করে সবকিছু চূড়ান্ত করেছেন। মাঠের চারপাশে কয়েক কিলোমিটারজুড়ে মাইক লাগানো হয়েছে, যাতে বক্তব্য সকলের কাছে স্পষ্টভাবে পৌঁছায়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (ক্রাইম) মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, মাঠ পরিদর্শন সম্পন্ন হয়েছে এবং সাদা পোশাকে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। গোয়েন্দা টিমসহ একাধিক ইউনিট কাজ করছে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
রংপুর নগরীর চারতলা মোড় এলাকার বাসিন্দা হাসান আলী মুরশিদুল হক ও খোকন মিয়া বলেন, ‘আমরা কখনো তারেক রহমানকে সামনাসামনি দেখিনি। আজকের জনসভায় তাকে দেখার এবং রংপুরের উন্নয়নের কথা শোনার আশা করছি।’
তারা বলেন, রংপুর সবসময় বৈষম্যের শিকার হয়েছে। এখানে প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি এরশাদের বাড়ি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শ্বশুরবাড়ি থাকলেও কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি। আমরা আশা করি, তারেক রহমানের নেতৃত্বে রংপুরের বৈষম্য কেটে যাবে এবং উন্নয়নের ধারায় যুক্ত হবে।
রংপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও পীরগঞ্জ-৬ আসনের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তারেক রহমানের সফর আমাদের প্রার্থীদের জন্য বাড়তি শক্তি যোগাবে। রংপুরের মানুষ উৎসুক হয়ে তার বক্তব্যের অপেক্ষায় আছেন।’