বগুড়া: বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে সব শ্রেণির মানুষ সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারবেন। প্রত্যেকে তার ন্যায্য অধিকার পাবেন। এরকম বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে সকলে ভেদাভেদ ভুলে মর্যাদা নিয়ে ঐক্যের সঙ্গে সমাজ বদলাতে পারেন।
প্রায় দুই দশক পর নিজ জেলা বগুড়ায় এসেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে শহরের হোটেল নাজ গার্ডেনে বিএনপি চেয়ারপারসনের সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমানের উদ্যোগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু-কিশোরদের মাঝে হুইলচেয়ার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে একটা অভ্যাস আছে যে বিশেষ চাহিদাসম্পনন্ন মানুষগুলোকে একটু ঘরের ভিতরে রেখে দেই। তাদেরকে আমরা বের হতে দেই না। এরকম একটা মন মানসিকতা আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থায় আছে। তবে যে মানুষগুলো আজ এখানে উপস্থিত হয়ে আমাদেরকে গান শুনালেন, বিভিন্ন বক্তব্য রাখলেন, কবিতা বললেন- এর থেকে পরিস্কার বোঝা যায় আমরা যারা সুস্থ স্বাভাবিক আছি বিভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকে তাদের অনেকের থেকে এই মানুষগুলোর মধ্যে অনেক গুণ আছে যেটা আমাদের অনেকের মধ্যে নেই।
তারেক রহমান বলেন, আমরা যদি সামাজিক, রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয় সকল অবস্থান থেকে এই মানুষগুলোর পাঁশে এসে দাঁড়াই তাহলে বাংলাদেশ থেকে অনেক প্রতিভাবান মানুষ বের হয়ে আসবে। আমাদের খুব যে বেশি কিছু প্রয়োজন তা নয়, শুধু এই মানুষগুলোকে একটু সুযোগ করে দেওয়া যাতে তারা দুনিয়ার আলো বাতাসে আমাদের আর দশজনের মতই স্বাভাবিকভাবে কম বেশি চলাফেরা করতে পারেন। সেই সুযোগটা তাদেরকে তৈরি করে দিতে হবে। কারণ তারাও মানুষ। তারা আমাদের বাইরে না। আমাদের প্রত্যেকের পরিবারের মধ্যে এরকম কেউ না কেউ হয়তো একজন আছেন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সকলের মনের মধ্যে একটি শপথ নেই এবং প্রতিজ্ঞা করি। আজকের পর থেকে আগামী দিনগুলোতে এই ধরণের মানুষ যারা আছেন আমরা যে যার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব তাদেরকে সহযোগিতা করি। এটাই হোক আজকের দিনের স্বপ্ন। পরিশেষে আজকের এই অনুষ্ঠানে আমাদেরকে যারা গান শোনালেন। যে মানুষগুলো কষ্ট করে উপহার নিয়ে এসেছেন তাদেরকে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আসুন আমরা সকলে মিলে একটা মর্যাদাসম্পন্ন বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করি।
অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও বিশিষ্ট হৃদরোগ চিকিৎসক জোবাইদা রহমান বলেন, আজকে দুইজন শিশু বক্তব্য দিলো। তাদের মধ্যে একজন কবিতা লেখেন। জানলাম তিনি আইটি সেক্টরেও কাজ করছেন। আমি সত্যিই তাদের জ্ঞান এবং প্রতিভা দেখে মুগ্ধ। আশা করবো তারা ভবিষ্যতে আরও উন্নতি করবে। সবার ক্ষেত্রে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। আমরা বিশ্বাস করি যে শিশুরাই জাতির ভবিষ্যত। আজকের শিশু হবে আগামী দিনের দেশ গড়ার মহান সৈনিক। আমাদের রাজনীতি সুষ্ঠু পরিকল্পনার রাজনীতি। সুস্বাস্থ্য কিভাবে দেশের বিভিন্ন জেলায় পৌছে দেওয়া হবে সে বিষয়ে পরিকল্পনা করা হয়েছে। দেশের উন্নয়ন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সিএসএফ গ্লোবালের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে ডা. জোবাইদা রহমান ও তারেক রহমান উপস্থিত শিশু-কিশোর ও তাদের অভিভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এ সময় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১০ জন শিশুকে হুইলচেয়ার উপহার দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তারেক রহমান নিজে শিশুদের সঙ্গে কথা বলেন। তাদের খোঁজখবর নেন এবং শিশুদের পরিবেশনায় মনমুগ্ধকর গান উপভোগ করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট একেএম মাহবুবর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আলহাজ্ব মোশারফ হোসেন, সিএসএফ গ্লোবাল এর চেয়ারম্যান ড. এম এ মুহিত, আমরা বিএনপি পরিবারের আহ্বায়ক সিনিয়র সাংবাদিক আতিকুর রহমান রুমন, বগুড়ার ফোরস্টার হোটেল নাজ গার্ডেনের স্বত্তাধিকারী বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. শোকরানা, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাফিন আহমেদ রন্টি, উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক শররুখ আহমেদ রিকি, বিএনপি মিডিয়া সেল রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়ক সিনিয়র সাংবাদিক কালাম আজাদ, বগুড়া শহর বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট হামিদুল হক চৌধুরী হিরুসহ অন্যান্যরা।
অনুষ্ঠান শেষে তারেক রহমান নিজ হাতে গড়া বগুড়া বায়তুর রহমান সেন্ট্রাল মসজিদে জুম্বার নামাজ আদায় করেন। পরে তিনি মহাস্থানগড়ে শাহ বলখী মাহী সাওয়ার (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত শেষে রংপুরের উদ্দেশে যাত্রা করেন।