ঢাকা: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে বিশেষ পরিবহন নির্দেশনা জারি করেছে সরকার। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, ভোটগ্রহণের আগে-পরে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানচলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের উপসচিব আল-আমীন মো. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়।
৭২ ঘণ্টা বন্ধ থাকবে মোটরসাইকেল: প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত অর্থাৎ মোট ৭২ ঘণ্টা সারাদেশে মোটরসাইকেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নির্বাচনের পরের দিনও এই নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখা হয়েছে।
অন্যান্য যানবাহনের ওপর বিধিনিষেধ: মোটরসাইকেল ছাড়াও ভোটগ্রহণের আগের রাত অর্থাৎ ১১ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি (ভোটের দিন) রাত ১২টা পর্যন্ত ট্যাক্সি ক্যাব, পিকআপ, মাইক্রোবাস ও ট্রাক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।
নিষেধাজ্ঞা শিথিলের শর্তাবলি: কিছু জরুরি এবং বিশেষ ক্ষেত্রকে এই প্রজ্ঞাপনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে:
জরুরি সেবা: ওষুধ, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী বহনকারী যানবাহন, সংবাদপত্র, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স।
নির্বাচনি দায়িত্ব: আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসন এবং অনুমোদিত পর্যবেক্ষকদের যানবাহন।
সংবাদমাধ্যম: নির্বাচন কমিশন ও রিটার্নিং অফিসারের স্টিকারযুক্ত সাংবাদিকদের যানবাহন ও মোটরসাইকেল।
টেলিযোগাযোগ: বিটিআরসি ও এর লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের জরুরি সেবার গাড়ি।
যাত্রী সুবিধা: বিদেশের টিকিট বা পাসপোর্ট প্রদর্শন সাপেক্ষে বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যানবাহন এবং দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাস।
প্রার্থী ও এজেন্ট: রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি সাপেক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও নির্বাচনি এজেন্টের জন্য একটি করে ছোট গাড়ি চলাচলের অনুমতি থাকবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়েছে, জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর ও আন্তঃজেলা সংযোগ সড়কের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার প্রয়োজন অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা শিথিল বা কার্যকর করার ক্ষমতা রাখবেন।