ঢাকা: রাজনৈতিক দল ও আমলাতন্ত্র জুলাই আন্দোলন থেকে কোনো শিক্ষা গ্রহণ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি’র সম্মেলনে কক্ষে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গুমের জড়িতদের বিষয়ে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, মানবাধিকার লংঘনের মত গুম, খুন ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকান্ডের সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি জড়িত বা মূল ভূমিকা রেখেছে, সরকারের দায়িত্ব তাদের চিহ্নিত করে জবাবদিহিতার আওতায় আনা। গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা সংস্থা যাই বলি না কেন তাদের সংস্কার না করে মানুষের অধিকার ও ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা বাস্তবিক অর্থে কঠিন।
তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বন্দোবস্তের মাধ্যমে ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার অভূতপূর্ব সুযোগ থাকলেও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নজিরবিহীন আত্মত্যাগের বিনিময়ে কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অসামান্য অর্জন। রাষ্ট্র সংস্কারের বাস্তব সুফল অর্জনের পথে ইতোমধ্যে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও প্রবল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আমলাতন্ত্রের কাছে সরকার নতি স্বীকার করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের বেশ কয়েকটি মৌলিক বিষয়ে জুলাই সনদে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ঐকমত্যে পৌঁছানো একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হলেও রাষ্ট্র সংস্কারের মূলমন্ত্র তথা জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার অভীষ্টের জন্য অপরিহার্য বিধান সম্পর্কে জুলাই সনদে ঐকমত্যের ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের প্রতিরোধের ফলে সংস্কারের ভিত্তি দুর্বল ছিল। পরবর্তীতে অধ্যাদেশ ও সরকারি সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে প্রতিরোধক মহল, বিশেষ করে আমলাতন্ত্রের প্রভাবশালী মহলের অন্তর্ঘাতমূলক অপশক্তির কাছে সরকারের নতি স্বীকারের ফলে সংস্কার লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছে। এছাড়া সংস্কার প্রতিরোধক ঝুঁকি বিশ্লেষণে আগ্রহ না থাকার কারণে প্রতিরোধক শক্তির হাতে আত্মসমর্পণ করেছে সরকার।