ঢাকা: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ‘হ্যাঁ’ ভোটের সঙ্গে রাষ্ট্রের অনেক মৌলিক বিষয় জড়িত আছে। তাই আশা করি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ আসা উচিত।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবির সম্মেলনে কক্ষে ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী বিচার, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচন: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনের পর এখন রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতায় গেলে তাদের চিন্তা ভাবনা কেমন হয় সেটি দেখার বিষয় রয়েছে।
নির্বাচনে মব তৈরির আশঙ্কা রয়েছে কি না – এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনে মব প্রভাবিত করার ঝুঁকি আছে। সচিবালয় থেকেই কিন্ত দেশে প্রথম মবের উৎপত্তি। আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত সহিংসতারও ঝুঁকি রয়ে গেছে। অতীতে কোনো নির্বাচন সহিংসতা ছাড়া হয়নি। আশা করি নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে এবং গণতন্ত্রের উত্তরণ ঘটবে।
বিচার বিভাগের দলীয়করণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ১১টি সংস্কার কমিশনের ক্ষেত্রে যেগুলো বাস্তবায়ন হওয়া উচিত ছিলো সেগুলো হয়নি। বিচার ও প্রতিশোধকে একাকার করে ফেলা হয়েছে। কাজেই বিচারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে। কতটুকু বিচার হয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন থাকবে। আগে এক দল থাকলেও এখন ত্রিমুখী দলের শক্তি পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিচার বিভাগে দলীয়করণ আগের থেকে অনেকটাই কমেছে। এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নাই যে, দলীয়করণ প্রভাবমুক্ত ছিল। যে দল ক্ষমতায় আসবে আশা করবো প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ মুক্ত করণে তারা কাজ করবে।
টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার ৩৬ দিনের মধ্যে দেশে অন্তত ১৫ জন রাজনৈতিক নেতাকর্মী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশজুড়ে ৪০১টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে ১০২ জন নিহত হয়েছেন। এ সময়ে এক হাজার ৩৩৩টি অস্ত্র নিখোঁজ হয়েছে। পাশাপাশি, ডিপফেক ও ভুল তথ্যের হুমকি এবং ৫০টির বেশি সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার কারণে নির্বাচনি পরিবেশে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি বলেন, অর্থ, পেশি ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির হাতে নারীর অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব অনেকটাই জিম্মি। এই জায়গায় রাজনীতিতে নারীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতে এ সরকার ব্যর্থ।