ঢাকা: ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কখনও নির্বাচনের আগে নিজের বিজয় নিয়ে নিশ্চিত কথা বলেননি। বরং যারা নির্বাচনের আগেই জয়ের নিশ্চয়তা দেয়, তাদের বক্তব্যে তিনি কারচুপি কিংবা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’এর আশঙ্কা দেখেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর রাজারবাগ সেন্ট্রাল পুলিশ হাসপাতাল মসজিদে নামাজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, ১৯৭৭ সাল থেকে তিনি এই এলাকায় নিয়মিত নির্বাচন করে আসছেন। একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ হয়েও আজ পর্যন্ত তিনি কখনও নির্বাচনের আগে নিশ্চিতভাবে বলেননি যে তিনি জয়ী হবেন। তার মতে, নির্বাচনের ফলাফল নির্ভর করে জনগণের রায়ের ওপর, এখানে আগে থেকে নিশ্চিত কিছু বলার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, যারা কখনও নির্বাচন করেননি, যাদের জনগণের সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা নেই, যারা নিজ এলাকায় পরিচিত নন কিংবা এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে কখনও জড়িত ছিলেন না, তারাই যদি জয়ের নিশ্চয়তা দেন, তাহলে সেটি স্বাভাবিক প্রশ্নের জন্ম দেয়। মির্জা আব্বাসের ভাষায়, “যারা কখনও জয়ী হওয়ার কথা নয়, তারা যদি বলে জিতেই আছে, তাহলে সন্দেহ হয়,তারা হয়তো নির্বাচনকে প্রভাবিত করার বা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের চিন্তাভাবনা করছে।”
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচন মানেই অনিশ্চয়তা। এই অনিশ্চয়তাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। অথচ কিছু মহল অহেতুক আত্মবিশ্বাস দেখিয়ে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার পরিবেশ তৈরি করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে নারী সমাজকে নিয়ে সম্প্রতি জামায়াতে ইসলামীর আমিরের দেওয়া বক্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা করেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, এটি প্রথম নয়, এর আগেও তিনি একাধিকবার বেফাঁস মন্তব্য করেছেন। একজন অভিজ্ঞ ও বিজ্ঞ ব্যক্তি হয়েও এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। মির্জা আব্বাস আরও বলেন, জামায়াতের বর্তমান নেতৃত্বের কয়েকজন আগে অন্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তারা জামায়াতে এসে এমন ভাব দেখান যে, বিতর্কিত কিছু না বললে মানুষ বুঝবে না তারা জামায়াতের রাজনীতি করেন।
নারীদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য করার মতো সাহস সেখান থেকেই আসে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ওই বক্তব্যের ব্যাখ্যায় আইডি হ্যাক হওয়ার যে দাবি করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মির্জা আব্বাস। তিনি বলেন, “তারা বলছে আইডি হ্যাক হয়েছে। কিন্তু হ্যাক হওয়া আইডি এত অল্প সময়ে ফেরত পাওয়া যায়, এটা আমি আগে জানতাম না।”
মির্জা আব্বাস বলেন, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে হলে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ, সংযত বক্তব্য এবং জনগণের প্রতি শ্রদ্ধা অপরিহার্য। অন্যথায় নির্বাচন ও রাজনীতি দুটিই আরও বিতর্কিত হয়ে উঠবে।