Monday 28 September 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা করছেন মির্জা আব্বাস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৯ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫২
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ঢাকা: ঢাকা ৮ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির পরিকল্পনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট অডিটোরিয়ামে এক নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন তিনি। সভা শেষে কাটাবন, এলিফ্যান্ট রোড ও পিজি হাসপাতাল এলাকার আশপাশে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেন। পরে রাতে নয়াপল্টনের গাজী ভবনের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ওই এলাকায় গণসংযোগের কর্মসূচি করেন তিনি।

তিনি বলেন, বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ ভোটাধিকার অর্জন করেছে। এই অধিকার প্রয়োগে সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে হবে। কোনো ধরনের কারচুপি বা অনিয়মের চেষ্টা হলে তা কোনো অবস্থাতেই মেনে নেওয়া হবে না।

বিজ্ঞাপন

মির্জা আব্বাস বলেন, ডাক্তার হোক, নার্স হোক, রাজনীতিবিদ হোক কিংবা কুলি-মজুর ভোট দেওয়ার অধিকার ও দায়িত্ব সবার রয়েছে। দয়া করে ভোট দিতে যাবেন, এই অধিকারটি প্রয়োগ করবেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এবারও নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি পরিকল্পনা থাকতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তার ভাষায়, আগে ভোট শেষে পোলিং এজেন্টরা সন্ধ্যার মধ্যেই ফলাফল নিয়ে ফিরতেন, অথচ এখন বলা হচ্ছে ফল পেতে দুই-তিন দিন সময় লাগবে। এটিকে তিনি সম্ভাব্য কারচুপির ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতরে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা এখনো আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছেন। তাদের উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন না হওয়া, আর নির্বাচন হলেও যেন বিএনপি জয়ী হতে না পারে।

বিদেশে অবস্থানরত কিছু ব্যক্তির সমালোচনা করে মির্জা আব্বাস বলেন, অনেকে দেশের বাইরে থেকে নিজেদের দেশপ্রেমিক বলে দাবি করেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কথা বলেন। যদি দেশের প্রতি এতই ভালোবাসা থাকে, তাহলে দেশে এসে নির্বাচনে অংশ নিন, জনগণের সঙ্গে কাজ করুন। কিন্তু তারা বিদেশে বসে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বদনামের চেষ্টা চালাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, কিছু লোক সারাদিন মির্জা আব্বাস কিংবা অন্য রাজনৈতিক নেতাদের নাম নিয়ে মিথ্যা কথা ছড়ায়। তারা আবার দাবি করে মাদরাসায় পড়াশোনা করেছে। অথচ মাদরাসায় ধর্মীয় শিক্ষা, সত্য ও নৈতিকতার শিক্ষা দেওয়া হয়, গীবত ও মিথ্যা বলা নিষিদ্ধ করা হয়। কিন্তু এসব লোক সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা মিথ্যা কথাই বলে যাচ্ছে।

নির্বাচনি আচরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভোট চাইতে হলে নিজের কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। অন্যের গীবত, কুৎসা বা অপবাদ দিয়ে ভোট চাওয়ার প্রয়োজন নেই।

নিজের রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি অন্তত পাঁচবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। কখনো কারও বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে রাজনীতি করেননি, বরং সবসময় নিজের কাজ ও পরিকল্পনার কথাই জনগণের সামনে তুলে ধরেছেন।

উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে তিনি বলেন, ঢাকায় মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ দুটি হাসপাতাল ও একটি ডায়াবেটিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি তার নির্বাচনি এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, খেলার মাঠ, কলেজসহ নানা উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন, যার বিবরণ লিফলেটে উল্লেখ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভোটাধিকার আদায়ের জন্য যে সংগ্রাম তিনি করেছেন, সেটাই তার সবচেয়ে বড় সার্থকতা। মানুষ তাকে ভোট দিক বা না দিক, অবাধভাবে ভোট দিতে পারাটাই তার শান্তি। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে কেউ একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগও প্রমাণ করতে পারবে।

সারাবাংলা/এফএন/এনজে
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর