চট্টগ্রাম ব্যুরো: নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধ, আন্দোলন দমাতে হয়রানি, দমন-পীড়ন বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চট্টগ্রাম বন্দর ভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে পরিষদের সমন্বয়ক মো. ইব্রাহিম খোকন এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। সংগঠনটির ডাকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে বন্দরে অচলাবস্থার মধ্যেই তাদের আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা এলো।
ইব্রাহিম খোকন সারাবাংলাকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা পরিষদের ডাকা কর্মবিরতি কর্মসূচিতে শ্রমিক-কর্মচারীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সাড়া দিয়েছে। এ কারণে চারদিন ধরে এ কর্মসূচি সফলভাবে চলছে। আমরা আশা করেছিলাম, সরকার শ্রমিক-কর্মচারীদের দাবি মেনে ইজারা প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে। কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম, সরকার ও বন্দর কর্তৃপক্ষ সেই পথে না গিয়ে উল্টো আন্দোলনকারীদের বদলিসহ নানা প্রক্রিয়ায় হয়রানি ও দমন-পীড়ন শুরু করেছে। আমরা তাদের হয়রানি বন্ধ করার আহ্বান জানাই। সরকার যতক্ষণ পর্যন্ত ইজারা প্রক্রিয়া বাতিলের ঘোষণা না দেবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।’

ছবি: সারাবাংলা
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব-আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে গত শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ও রোববার দুইদিন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মবিরতি পালন করে বিএনপিপন্থী দুই সংগঠন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ও চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী সাবেক সিবিএ। তৃতীয়দিনে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’র ডাকে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কর্মবিরতি পালিত হয়।
তিনদিনই কর্মবিরতি চলাকালে বন্দরের শ্রমিক-কর্মচারীদের অধিকাংশই কাজে যোগ দেননি। এর ফলে প্রায় সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয় চট্টগ্রাম বন্দরে। আমদানি-রফতানিকারকসহ বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীদের মধ্যে এ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ অবস্থায় গতকাল সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে ১৫ জনকে বদলির সুপারিশ করা হয়, যাদের মধ্যে আন্দোলনের সামনের সারিতে থাকা বিএনপিপন্থী দুই শ্রমিক নেতাও আছেন। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. বেলায়েত হোসেনের সই করা আদেশে দাফতরিক প্রয়োজনে বদলিপূর্বক সংযুক্তি প্রদান করার কথা জানানো হয়। এর মধ্যে আটজনকে পায়রা বন্দরে এবং সাতজনকে মোংলা বন্দরে বদলি করা হয়।
বদলি-হয়রানির প্রতিবাদে এবং এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে আজ মঙ্গলবার ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ডাক দেওয়া হয়। এর ফলে আজ সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ আছে। কর্মচারীরা হাজিরা দিলেও কাজে যোগ দেননি। এতে বন্দরের তিনটি টার্মিনাল জিসিবি, সিসিটি ও এনসিটিতে অপারেশাল কার্যক্রম অনেকটাই বন্ধ আছে। তিন টার্মিনালে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কার্যক্রমে প্রায় অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কনটেইনার টার্মিনালগুলোতে যন্ত্রপাতির অপারেটররাও কাজে যোগ দেননি। বন্দরে পণ্য পরিবহনকারী যানবাহন প্রবেশ বন্ধ আছে। অফডক থেকে বন্দরে কনটেইনার পরিবহনও বন্ধ আছে।
এ ছাড়া শ্রমিক-কর্মচারি ঐক্য পরিষদ (স্কপ) আজ মঙ্গলবার সকালে বন্দরের দুই প্রবেশপথে অবস্থান নিয়ে অবরোধ তৈরি করে বিক্ষোভ করে।