ঠাকুরগাঁও: জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের অন্যতম শরিক জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, লন্ডন থেকে আসা মুফতি সাহেব নতুন নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছেন আমাদেরকে। উনি বলতেছেন আই হ্যাভ এ প্লান, আমার একটা পরিকল্পনা আছে। তারপর থেকে দেখি মানুষ হত্যা শুরু হয়েছে। পরিবারের মা বোনদের সম্মান দিয়ে কার্ড দেওয়ার কথা বলে নতুন জালেম বিএনপি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মা বোনদের গায়ে হাত দিচ্ছে। কথা পরিষ্কার নতুন বাংলাদেশের আমার মা ও বোনদের ইজ্জত নিয়ে ছিনিবিনি খেলতে দেব না।
তিনি বলেন, এ অঞ্চলের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিএনপি জামায়াত যখন একসঙ্গে ছিল ঐক্য ছিল। আমার দল জাগপাও ছিল। ফখরুল সাহেব তার বক্তব্যে অসংখ্যবার বলেছে যুদ্ধ অপরাধীর নামে জামায়াতে ইসলামী নেতাদের অন্যায়ভাবে বিচারের নামে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। সঙ্গে থাকলে সঙ্গী আর পাশে না থাকলে জঙ্গি। আপনার বয়স হয়েছে ভুলভাল বলেন আমরা সেটা বুঝতে পারি। নতুন করে বলছেন জামায়াত ইসলামী ক্ষমতায় আসলে নাকি বাংলাদেশ আফগানিস্তান হয়ে যাবে। কিছুদিন আগে বলেছিলেন আবার পাকিস্তান হয়ে যাবে। একেক সময় একেক কথা বইলেন না। জুলাই পরবর্তী গণঅভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশের মানুষ এই নতুন বাংলাদেশকে আফগানিস্তান-পাকিস্তান হিসেবে চায় না। আর নতুন বাংলাদেশের মানুষ লন্ডনেও পালিয়ে যেতে চায় না। নতুন বাংলাদেশকে আমরা সোনার বাংলাদেশের রূপান্তর করতে চাই।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় টায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের গড়েয়া বাজারে জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত নির্বাচনি সভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।
রাশেদ প্রধান বলেন, ফখরুল সাহেব কে বিনয়ের সঙ্গে বলতে চাই। আল্লাহর ওয়াস্তে সংলগ্ন কথাবার্তা বলুন। কার সম্পর্কে বলছেন, কিভাবে বলছেন বুঝেশুনে বলুন। আমি বলি না দুষ্ট মানুষরা বলে পর্যাপ্ত বয়স হওয়ার পরেও ফখরুল সাহেব নাকি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে নাই। দুষ্ট লোকেরা এও বলে সাহেবের পিতা নাকি ঐ সময়ে বিখ্যাত রাজাকার ছিলেন। কার মুখে কি শুনি।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন ভাই উড়ে এসে জুড়ে বসেননি। ৫টি বছর অন্ধকার কারাগারে কেটেছে। রিমান্ডের নামে ৫০ দিনেরও বেশি তাকে নির্যাতন করা হয়েছে। সেই দেলাওয়ার ভাই এসেছেন দাড়িপাল্লার প্রতীক নিয়ে আপনাদের মাঝে। এই সেই এলাকার যারা আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসির পর হিন্দু-মুসলমান সবাই রাজপথে নেমে এসেছিল। এখানে সেদিন ৬ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
রাশেদ প্রধান বলেন, আগের মতো কেন্দ্র দখল করতে আসবেন ওই বাংলাদেশ আর নাই। ছাত্র ও যুবক ভাইদের আদেশ করে দিতে চাই যদি আমার কোন বোনের গায়ে হাত পড়ে তাহলে সেই হাত ভেঙে চুরমার করে দেবেন। ১২ তারিখ ভোটের অধিকার কেউ যদি ছিনিয়ে নিতে আসে তাহলে তিতুমীরের বাঁশের কেল্লার মতো বাঁশ নিয়ে পাহারা দিবেন। আগামীর বাংলাদেশ হবে মানবিক বাংলাদেশ। আগামীর বাংলাদেশ দেলাওয়ার ভাইয়ের মতো মানুষ যখন দায়িত্বে আসবে মজলুম মানুষ তার কাছে আপনারা যেতে পারবেন, দাবি আদায় করতে পারবেন। ওই বুলেটপ্রুফ গাড়ির ভেতরে যারা থাকে ভিআইপি সেজে যারা থাকে তাদেরকে আমরা চাই না।