গাইবান্ধা: গাইবান্ধার নির্বাচনি মাঠে এবার সংখ্যার দিক থেকে পুরুষের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে নারী ভোটার।
গাইবান্ধা জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গাইবান্ধার ৫টি সংসদীয় আসনের প্রতিটিতেই পুরুষের তুলনায় নারী ভোটার বেশি।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধা জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ভোটার ২১ লাখ ৯০ হাজার ৪০১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১০ লাখ ৮২ হাজার ৪৩৭ জন এবং নারী ১১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন। অর্থাৎ পুরুষের চেয়ে অন্তত ২৫ হাজার বেশি নারী ভোটার রয়েছে।
গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অনার্স চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্থী মনি জানান, এটি আমার জীবনের প্রথম ভোট। শান্তিপূর্ণ ভাবে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারব এমনটাই প্রত্যাশা রাখি। আমরা চাই কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক।
স্থানীয় নারীরা বলেন, ‘ভাতা পাই, ছেলে-মেয়েদের স্কুলের সুবিধা পাই, হাসপাতালে গেলে সেবা পাই—এসবই আমাদের জীবনের অংশ। তাই আমরা দেখি কারা আসলে কাজ করেছে।’
ফুলছড়ি উপজেলার চর মানিককরের গৃহিণী শিউলি খাতুন বলেন, ‘চরে রোগ হলে ডাক্তারের কাছে যাওয়া বড় কষ্টের। প্রসূতি সেবা তো আরও দূরের কথা। আমরা চাই হাসপাতালের নৌকা সেবা কিংবা কাছাকাছি স্বাস্থ্যকেন্দ্র।’
পলাশবাড়ী উপজেলার দর্জি মমতাজ বানু, ‘আমাদের মতো নারীদের ছোট ব্যবসার সুযোগ দিলে পরিবারও দাঁড়াবে, আমরাও এগোবো। যে মহিলা উদ্যোক্তাদের সুযোগ বাড়াবে তাকেই ভোট দিবো।’
গাইবান্ধা পৌর শহরের বেসরকারি চাকরিজীবী শর্মিলা আক্তার বলেন, ‘শহরে সবচেয়ে বড় সমস্যা নিরাপত্তা। অফিস থেকে রাতে ফিরলে ভয় লাগে। ফুটপাথ, রাস্তার আলো, সিসিটিভি এইগুলো জরুরি। যে প্রার্থী এগুলো করবে, আমরা তাঁকে গুরুত্ব দেব।’
এদিকে নিজ দলের প্রার্থীদের জয়ী করতে মাঠে নেমেছেন নারী কর্মী সমর্থকরা। তারা উঠান বৈঠকের মাধ্যমে নারীদের স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নির্মাণ, প্রসূতি সেবা, নারীদের উদ্যোক্তা সহায়তা এসব প্রতিশ্রুতি সামনে রেখে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।
গাইবান্ধা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা ভোট কেন্দ্রে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে মহিলা আনসার সদস্যের ব্যবস্থা করেছি। এছাড়া প্রতিটি কেন্দ্র নারীবান্ধব করা হবে যেন নারী ভোটাররা নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।’
নাগরিক সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সভাপতি নিউটন প্রামানিক মুঠোফোনে জানান, নারীরা কেবল সংখ্যায় বেশি নন, তাদের ভোট দেওয়ার ধরণেও এসেছে পরিবর্তন। তারা উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি মুখে শুনে ভোট দেন না; সাম্প্রতিক বছরে জীবনে বাস্তব সুবিধা কী পেয়েছেন, সেই হিসাব কষে সিদ্ধান্ত নেন। তাই প্রার্থীর জনপ্রিয়তা, দলীয় শক্তি কিংবা প্রচারণার জৌলুশ এসবকিছুর চেয়ে তাদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো বাস্তব কাজ।