Thursday 05 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

এএসআই মনির আগুন দিয়েছে, রাজসাক্ষীও জড়িত ছিল: এসআই আবদুল মালেক

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৭:৫৪ | আপডেট: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৪৬

সাবেক এসআই আবদুল মালেক – ছবি : সারাবাংলা

ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আশুলিয়ায় ৬ জনের লাশ পোড়ানোসহ ৭ জনকে হত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় ঘোষণার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পুলিশের তৎকালীন এসআই আবদুল মালেক।

ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়া থেকে বের হওয়ার সময় উচ্চস্বরে তিনি বলেন, ‘এএসআই মনির আগুন দিয়েছে। রাজসাক্ষী (এসআই শেখ আবজালুল হক) জড়িত ছিল। মিথ্যা মামলায় কেন সাজা দিলো? যারা জড়িত তাদের আনা হয়নি। আল্লাহ বিচার করবে।’

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

বিজ্ঞাপন

রায়ে সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড, সাতজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং দুজনের সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে রাজসাক্ষী এসআই শেখ আবজালুল হককে ক্ষমা দেওয়া হয়েছে।

রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের একজন একজন করে হাজতখানায় নেওয়া হচ্ছিল। এ সময় আদালতকক্ষের বাইরে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এসআই আবদুল মালেকসহ কয়েকজন আসামি উচ্চস্বরে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানাতে থাকেন। একপর্যায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মালেক অসুস্থ হয়ে কিছু সময়ের জন্য জ্ঞান হারান। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে ধরে হাজতখানায় নিয়ে যান।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন— ঢাকা-১৯ আসনের সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও কনস্টেবল মুকুল চোকদার।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাতজন হলেন— ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন ও সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস।

সাত বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন এসআই আরাফাত উদ্দিন ও এএসআই কামরুল হাসান।

পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার এটি তৃতীয় রায়। গত ১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণার জন্য ৫ ফেব্রুয়ারি দিন নির্ধারণ করা হয়।

এর আগে গত বছরের ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। সে সময় উপস্থিত আট আসামির মধ্যে সাতজন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন এসআই শেখ আবজালুল হক।

একই বছরের ২ জুলাই প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত। অভিযোগের সঙ্গে ৩১৩ পৃষ্ঠার তথ্যসূত্র, ১৬৮ পৃষ্ঠার দালিলিক প্রমাণাদি ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করা হয়।

এই ঘটনায় শহীদ হন শহীদ সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়োজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ শাহাবুল ইসলাম।

উল্লেখ্য মামলায় ১৩ নম্বর সাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দেন নবম এএসআই মনিরুল ইসলাম এবং ২৩ নম্বর সাক্ষী ছিলেন এসআই শেখ আবজালুল হক।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর